ইবোলার নতুন ‘বুন্ডিবুগিও’ স্ট্রেইনের চিকিৎসায় কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে আরও ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ফলে আফ্রিকার ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) ও প্রতিবেশী উগান্ডায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ উভয় ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
বুধবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বা ‘ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন’ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেনি।
বিজ্ঞাপন
ড. ভাসি মূর্তি জানান, একটি ভ্যাকসিন বিদ্যমান ইবোলা প্রতিরোধী টিকার মতো কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে অনুমোদিত যে ইবোলা ভ্যাকসিন রয়েছে, তা শুধুমাত্র ‘জায়ার’ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর। তাই নতুন ভ্যাকসিন তৈরিকে দ্রুত অগ্রাধিকার দিতে হবে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা আরও জানান, অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরেকটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে। তবে এখনো এটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষাও শেষ হয়নি। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কিছু ডোজ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসাও এখনো নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে এবং অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ডিআর কঙ্গোতে ৫১টি এবং উগান্ডায় দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শনাক্ত দুজনই ডিআর কঙ্গো থেকে গিয়েছিলেন, যাদের একজন মারা গেছেন।
ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। তবে সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি এখনো তুলনামূলক কম।
ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে ডিআর কঙ্গোতে। ধারণা করা হয়, এটি মূলত বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। নতুন বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এটি বিরল এবং অতীতেও সীমিত আকারে প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। সূত্র: বিবিসি।
এমআর




