মার্কিন ডলারের দরপতন এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে টানা পতনের পর বিশ্ববাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। তবে বন্ডের উচ্চ মুনাফার কারণে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির গতি এখনো সীমিত রয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সোমবার (১৮ মে) দিনের শুরুতে ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই সময়ে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৭২ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ডলারের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার ফলে বিদেশী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ ও রুপার মতো পণ্যগুলো আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, ‘মার্কিন ডলার সূচক দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে ক্রমবর্ধমান বন্ড ইল্ড সম্ভবত স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির গতি সীমিত করবে, অথবা স্বল্প মেয়াদে এখানকার ধাতুগুলোর ওপর আরও নিম্নমুখী মূল্যের চাপ সৃষ্টি করবে।’
এদিকে সোনার সঙ্গে রুপার ও অনান্য দাতুর দামও বেড়েছে। সোমবার ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স স্পট সিলভার ৭৬ দশমিক ৫৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬৩ দশমিক ২৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০২ দশমিক ৫৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে— ইরানি গণমাধ্যমে এই খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার কমেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল-গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এতে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের দামও অনেক বেড়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




