শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইসলামি জোট গঠনের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইসলামি জোট গঠনের ডাক

বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে একটি ইসলামী জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের অন্যতম রাজনৈতিক দল জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন সেখানেই থেমে থাকবে না এবং অবশেষে তা পাকিস্তান ও আরব বিশ্বকেও গ্রাস করতে পারে।

বৃহস্পতিবার করাচিতে আয়োজিত ওয়াহদাত-ই-উম্মত সম্মেলনে ভাষণে এসব কথা বলেন জেইউআই-এফ প্রধান। 


বিজ্ঞাপন


মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, ইসলামী দেশ ও তাদের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করার এটাই উপযুক্ত সময়। এখনই মুসলিম বিশ্বকে তার সম্মিলিত স্বার্থ রক্ষা এবং  বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলোর কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য এক মঞ্চে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে সব মতপার্থক্য দূরে রেখে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তিকে তার দল স্বাগত জানিয়েছে এবং তারা চায় আরও ইসলামী দেশ এই জোটের অংশ হোক।

জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, ‘এই বিষয়টি (ইসরায়েলের আগ্রাসন) এখন আর শুধু আল-কুদস বা ফিলিস্তিনে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আরব বিশ্ব ছাড়িয়ে ইরানে পৌঁছে গেছে। আমি ইসলামী দেশগুলো সরকার ও জনগণ উভয়কেই এই ভুল ধারণা থেকে জাগিয়ে তুলতে চাই যে, ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা কেবল ইরানেরই সমস্যা নয়। ইসরায়েল যদি ইরানকে পরাজিত করতে সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে তার পাকিস্তানের ওপরেও চড়াও হবে।’

মাওলানা ফজলুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি আরব বিশ্বের প্রতিও তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। একটি ইসলামী জোট গঠন জেইউআই-এফের ইশতেহারের অংশ ছিল এবং এখন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।’


বিজ্ঞাপন


প্রসঙ্গত, মার্কিন নেতৃত্বধীন সামরিক জোট ন্যাটের আদলে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বা মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনে পাকিস্তান ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করেছে। ২০২৫ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে ইসলামাবাদ, যা এখনা চলমান রয়েছে।

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (এসডিএমএ)  চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতাকে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু সামরিক সহযোগিতার নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত বার্তা বহন করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ঘটলে, তা উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। 

এদিকে সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও পাকিস্তনের স্বাক্ষরিত চুক্তির মধ্যে নতুন করে তুরস্ক ও কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তুরস্ক ও কাতার যদি এই জোটে যোগ দেয় তাহলে এটি একটি  শক্তিশালী সত্তায় পরিণত হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিন্ন হুমকি মোকাবেলা এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সূত্র: ডন

এমএইচআর

 

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর