ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটন-বেইজিং টানাপোড়েনের মধ্যেই শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক। চীনের বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গ্রেট হলের সামনে লাল গালিচায় ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায় শি জিনপিংকে।
বুধবার (১৩ মে) বিশেষ উড়োজাহাজ ‘এয়ারফোর্স ওয়ানে’ করে দুই দিনের সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছান ট্রাম্প। বিমানবন্দরে অবতরণের পর ট্রাম্পকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা উড়িয়ে ‘ওয়েলকাম ওয়েলকাম’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
সফরকালে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তার সঙ্গে এ সফরে এসেছেন টিম কুক, ইলন মাস্ক এবং ল্যারি ফিঙ্কসহ বেশ কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা।
যদিও এই সফর গত মার্চে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে হামলা করায় সফরটি পিছিয়ে যায়।
ইরান যুদ্ধ এবং এর সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তাদের মধ্যকার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ইস্যুতে তার শি জিনপিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন নেই।
বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং তাইওয়ান ইস্যুও ট্রাম্পের এ সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, তিনি চীনকে বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের বাজার আরও উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাবেন। এসব কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরাও তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন।
সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই সফরে ডজনখানেকের বেশি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা আছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বড় ধরনের আয়োজন রেখেছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মানে বিশেষ ভোজসভাসহ একাধিক কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে ট্রাম্পের মনে পড়ে যেতে পারে ২০১৭ সালের চীন সফরের স্মৃতি। সে সময়ও তাকে বিশেষ মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানিয়েছিল বেইজিং। এমনকি ‘নিষিদ্ধ নগরী’ ঝংনানহাই সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল, যা এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য করা হয়নি।
এআরএম




