বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীন কী সহায়তা করতে পারবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরান যুদ্ধ বন্ধে চীন কী সহায়তা করতে পারবে?

প্রায় এক দশক পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তিনি। এ বৈঠকে ইরান যুদ্ধ এবং এর সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তাদের মধ্যকার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসতে পারে।

ট্রাম্পের এই সফরটি গত মার্চে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে হামলা করায় সফরটি পিছিয়ে যায়। ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধ থামার পর তিনি চীন যাবেন। তবে যুদ্ধ না থামলেও রাষ্ট্রীয় সফরে আর বিলম্ব করতে চান না ট্রাম্প। 


বিজ্ঞাপন


যদিও বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিলে বেইজিংয়ের সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে আমাদের কারও সাহায্যের দরকার নেই। আমরা কোনো না কোনোভাবে জিতে যাব—তা আলোচনা বা যুদ্ধ যেভাবেই হোক। ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের বিভিন্ন দাবি নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে। 

তবে ইরান ও চীনের দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশক পুরোনো একটি জোট রয়েছে। অন্যদিকে বেইজিংই তেহরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা চীনের নিজের অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে চীন তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ের সাথেই যুদ্ধবিরতির সমান্তরাল আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতে বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেছেন, উত্তেজনা কমাতে তার দেশ সহায়তা করতে প্রস্তুত।


বিজ্ঞাপন


এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে চীন এই যুদ্ধের অবসান চায়। দেশটি ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে, যা সংঘাত নিরসনে তাদের পরিমিত মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে তারা এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোরও চেষ্টা করছে। 

এছাড়াও যুদ্ধ শেষ হলে ইরানের তেল ক্ষেত্রগুলো সচল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনেবড় ধরনের বিনিয়োগের একমাত্র সক্ষমতা এখন চীনের রয়েছে। চীন ইরানকে যুদ্ধ থামানোর শর্ত হিসেবে এই অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। 

এর আগেও চীন সফলভাবে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপন করেছিল। বর্তমান সংকটেও বেইজিং তাদের মিত্র পাকিস্তান বা অন্য আঞ্চলিক শক্তিকে ব্যবহার করে মধ্যস্থতা করতে পারে।

বেশকিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব খাটিয়ে চীন মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে একটি সমন্বিত জোট তৈরি করছে, যাতে সব পক্ষ মিলে ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আসার জন্য চাপ দিতে পারে।

মূলত, একদিকে চীন ইরানের একমাত্র বড় অর্থনৈতিক ভরসা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের বিশাল বাণিজ্য সম্পর্ক। চীন এই দুই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ইরানকে একটি টেকসই শান্তি চুক্তিতে আসার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করছে।

সূত্র: বিবিসি, মডার্ন ডিপ্লোমেসি

এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর