পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত জেলায় একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে দুই ট্রাফিক পুলিশসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৩ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন লাক্কি মারওয়াত জেলার সরাই নৌরং শহরে প্রধান বাজারে একটি রিকশায় রাখা বোমা বিস্ফোর ঘটায় সন্ত্রাসীরা।
বিজ্ঞাপন
লাক্কি মারওয়াতের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সাজ্জাদ খান এক বিবৃতিতে বলেছেন, নিহত দুজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম- আদিল জান ও রাহাতুল্লাহ।
স্থানীয় টিএইচকিউ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ ইসহাক জানান, তারা এখন পর্যন্ত ৩৩ জন রোগী পেয়েছেন এবং তাদের মধ্যে গুরুতর আহতদের বান্নুর হাসপাতালগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি দোকান ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নৌরং সার্কেলের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশের নেতৃত্বে একটি বিশাল পুলিশ দল বিস্ফোরণস্থলে পৌঁছেছে। দলটি এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
এর আগে এক বিবৃতিতে জরুরি সেবা সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র শাহদাব খান বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তিনি জনসাধারণকে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে এবং বিস্ফোরণস্থল এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করেছিলেন।
এদিকে কোনো গোষ্ঠী এখনও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এর পেছনে আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পাকিস্তানি ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর হাত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের শেষের দিকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওপর ব্যাপকহারে হামলা চালিয়ে আসছে টিটিপি। বিশেষ করে খাইবার-পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুলিশ ও সামরিক বাহিনী সদস্যরা তাদের ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছে।
গত মাসেও বান্নু জেলার একটি নিরাপত্তা চৌকিতে টিটিপির বোমা হামলা ও বন্দুক হামলায় ২১ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন।
সূত্র: ডন, আলজাজিরা
এমএইআর




