চলতি সপ্তাহেই চীন সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দিনের এই সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে ইরান, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও তারা বিবেচনা করবেন বলে সফরপূর্ব ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির এই দুই নেতা ছয় মাসেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বাণিজ্য বিরোধ, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং বিভিন্ন মতপার্থক্যের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তা স্থিতিশীল করার চেষ্টা থাকবে আলোচনায়।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৩ মে) বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ও শুক্রবার (১৫ মে) দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৭ সালের পর এটি হবে ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করতে বিভিন্ন ফোরাম গঠনে সম্মত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। একই সঙ্গে চীন বোয়িং উড়োজাহাজ, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ক্রয় ঘোষণাও দিতে পারে।
একজন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ‘বোর্ড অব ট্রেড’ এবং ‘বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এসব কাঠামো কার্যকর করতে পরবর্তীতে আরো কাজের প্রয়োজন হবে।
দুই দেশ তাদের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের বিরতি দীর্ঘায়িত করার বিষয়েও আলোচনা করবে, যার আওতায় চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। যদিও চলতি সপ্তাহেই এ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প-শি বৈঠকে দীর্ঘদিনের মার্কিন-চীন সম্পর্কে টানাপড়েন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান, তাইওয়ান এবং পারমাণবিক অস্ত্র।
চীন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং দেশটির তেল রফতানির অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবেও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যাতে বেইজিং তার প্রভাব ব্যবহার করে তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে উৎসাহিত করে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে চীনের লেনদেন নিয়েও বেইজিংকে চাপ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট শি জিনপিং। দ্বীপটিকে বেইজিং নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই ইস্যুতে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী হলেও চীন এখনও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে আলোচনায় অনিচ্ছুক। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, চীনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী নয়।
এফএ




