সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

এক বছর স্বর্ণ কিনতে বারণ করলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

এক বছর স্বর্ণ কিনতে বারণ করলেন মোদি

এক বছরের জন্য ভারতীয় নাগরিকদের স্বর্ণ কেনায় লাগাম দিতে বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসসহ জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (১০ মে) হায়দরাবাদে এক সরকারি কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।


বিজ্ঞাপন


মোদি বলেন, ‘এক সময়ে সঙ্কটময় পরিস্থিতি বা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে লোকে দেশহিতে স্বর্ণ দান করে দিত। এখন দান করার দরকার নেই। কিন্তু এক বছর বাড়িতে যাই অনুষ্ঠান হোক, আমরা স্বর্ণর গয়না কিনব না। দেশের স্বার্থে আমাদের এই সঙ্কল্প করতে হবে। আমরা স্বর্ণ কিনব না, বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে।’

এছাড়াও জ্বালানি সাশ্রয় ও হোম অফিস চালুর আহ্বানও জানিয়েছেন মোদি। এছাড়া বাইরের দেশে ঘুরতে যাওয়া এবং বিদেশে বিয়ের আয়োজন না করারও অনুরোধ করেছেন তিনি। 

কিন্তু কেন এই পদক্ষেপের কথা বলেছেন মোদি! সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ থেকে স্বর্ণ আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় কেন্দ্রীয় সরকারের, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতেই রাশ টানতে চাওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে (১ মে পর্যন্ত) ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭৭৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার থেকে কমে গিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার কোটি রুপি। এতে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ দাড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ লাখ ২৪ হাজার কোটি রুপি।


বিজ্ঞাপন


মূলত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়েছিল। তেলের দাম বাড়ার ফলে বেড়েছে আমদানির খরচও। এতে আমদানি-রফতানি ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্বর্ণ আমদানির খরচও বেড়েছে। তার ফলে চাপ পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে। 

বিশ্বের অন্যতম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশ ভারত। ভারত বিদেশ থেকে যত পণ্য আমদানি করে, তার ৯ শতাংশই হল স্বর্ণ। সবচেয়ে বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করে অপরিশোধিত তেল। তার পরেই রয়েছে স্বর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের স্বর্ণ আমদানি করেছে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ কোটি রুপি), যা গত বছরে তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা ছিল ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। 

ভারতীয়রা প্রতি বছর ৭০০ থেকে ৮০০ টন স্বর্ণ কেনেন। কিন্তু ভারতে স্বর্ণ মেলে মাত্র এক থেকে দু’টন। অর্থাৎ প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ স্বর্ণ তাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এত স্বর্ণ আমদানি করা হলেও তার প্রভাব কিন্তু এ দেশের শিল্পোৎপাদনে পড়ে না। উল্টে স্বর্ণ আমদানি করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।

প্রসঙ্গত, মোদি যখন এই কথা বলছেন দেশবাসীকে, তার আগেই ভারতের স্বর্ণ আমদানি ব্যাপক হারে কমে গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রায় ১০০ টন সোনা আমদানি করেছিল দেশটি। ফেব্রুয়ারি মাসে তা কমে হয়েছে ৬৫-৬৬ টন। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সংঘাত শুরু হয়েছে। এর জেরে মার্চ মাসে ভারতের সোনা আমদানি কমে হয়েছে ২০ থেকে ২২ টন। এপ্রিলে ভারত সোনা আমদানি করেছে ১৫ টন। করোরা মহামারির সময় ছাড়া গত ৩০ বছরে ভারতের স্বর্ণ আমদানি এতটা কমেনি।

সূত্র: আনন্দবাজার 

এমএইচআর

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর