বিধানসভা নির্বাচনে শোজনীয় হারের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধীদলে পরিণত হয়েছে টানা ১৫ বছর ধরে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ায় বিধানসভায় যেতে পারেননি সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেছে তৃণমুল।
এছাড়াও, উপ-বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দিয়েছে মমতার দল। পাশাপাশি বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলাবেন কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরাদ হাকিম।
বিজ্ঞাপন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন কর্মী হিসেবে পরিচিত শোভনদেব পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র বিধায়ক যিনি পরপর ১০ বার বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজ কেন্দ্র বালিগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী শতরূপা চট্টোপাধ্যায়কে ৬১ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করে ১০ বারের মতো জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তবে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল গঠনের পর থেকে দলটিতে যোগ দেন শোভনদেব।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার বিশ্বস্ততার সবচেয়ে উজ্জল নজির দেখা গেছে। সেবার কলকাতার ভবানিপুর আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন শোভনদেব, জয়ীও হয়েছিলেন। কিন্তু মমতার আহ্বানে সেই আসনটি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন শোভনদেব।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। তৃণমূল বিজয়ী হয় ৮০টি আসনে। এর ফলে ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আনন্দবাজার, এনডিটিভি
এমএইচআর




