ইন্দোনেশিয়ার হালমাহেরা দ্বীপে ডুকোনো আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আরও ২০ জন পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছে, তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির আগ্নেয়গিরিবিদ্যা ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি প্রশমন কেন্দ্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এতে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬.২১ মাইল) উঁচু আগ্নেয় ছাইয়ের স্তম্ভ তৈরি হয়। এসময় একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় থাকায় ১৭ এপ্রিল থেকে পর্বতারোহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিন্তু তা অমান্য করেই নিখোঁজ পর্বতারোহীর ওই দলটি উপরে উঠেছিল।
স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, অগ্ন্যুৎপাতে আটকা পড়া ২০ জন পর্বতারোহীর মধ্যে অনেকের বেঁচে থাকার খবর পাওয়া গেছে। তাদের সন্ধানে পুলিশসহ কয়েক ডজন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আটকা পড়া পর্বতারোহীদের মধ্যে নয়জন সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা।
উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কম্পাস টিভিকে জানিয়েছেন, নিহত তিনজন পর্বতারোহীর মধ্যেও দুইজস বিদেশি নাগরিক।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আগ্নেয়গিরির ছাই বৃষ্টি আশঙ্কায় টোবেলো শহরের বাসিন্দা ও পর্যটকদের আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে ৪ কিলোমিটার (২.৪ মাইল) দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও উৎক্ষিপ্ত শিলাখণ্ডের এবং লাভা প্রবাহের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গদ, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম আগ্নেয়গিরি প্রবণ দেশ, যেখানে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটি মূলত প্যাসিফিক রিং অব ফায়ারের (Ring of Fire) উপর অবস্থিত। ইউরেশীয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ইন্দো-অস্ট্রেলীয় টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এখানে ঘনঘন আগ্নেয়গিরির তৎপরতা দেখা যায়। এরমধ্যে মাউন্ট ডুকোনো একটি অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এবং গত মার্চ মাস থেকে এখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




