ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যায়িত করেছে চীন।
বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে চীন প্রস্তুত। এ মুহূর্তে ওই অঞ্চলে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘সংকটপূর্ণ মোড়ে’ দাঁড়িয়ে আছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি বৈঠক হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে চীনের দৃঢ় অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বেইজিং প্রমাণ করেছে তারা ইরানের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’।
ইরানের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধকে সরাসরি আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন আরাগচি।
তিনি আরও বলেন, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে তার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে তারা শুধু একটি ‘ন্যায়সংগত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি’ মেনে নেবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল এক অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান।
দেশটির কর্তৃপক্ষ নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে বর্ধিত সমুদ্রসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমুদ্রের আওতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ইরান।
মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এই নতুন এলাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত।
ইরানের দাবি করা ওই বর্ধিত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত ওই দুটি বন্দর বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই আমিরাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে আসছে দেশটি।
-এমএমএস




