বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

সিসিটিভি বন্ধ করে মমতাকে লাথি মারার কথা অস্বীকার! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সিসিটিভি বন্ধ করে মমতাকে লাথি মারার কথা অস্বীকার! 

পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোট গণনাকেন্দ্রে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, তার পেটে লাথি মারা হয়েছে। সেই সময সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল বলে দাবি করেছেন মমতা। 

এই অভিযোগের পরই জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ডিইও) ডিইও বিবৃতি দেন। তাতে বলা হয়েছে, ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনে যে সব অভিযোগ তুলেছেন, সেগুলি মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। গণনা প্রক্রিয়া স্বাধীন, স্বচ্ছ ভাবে নির্বাচন কমিশনের সব নিয়ম মেনে হয়েছে। সিসিটিভি কখনওই বন্ধ করা হয়নি।


বিজ্ঞাপন


তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রীকে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা মনগড়া, ভিত্তিহীন। গণনা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল কারণ, উনি বন্ধ করার জন্য জেদ করেছিলেন। তবে পরে নির্দেশিকা অনুযায়ী তাকে জানিয়ে গণনা আবার শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওই ডিইও রণধীরের কথা উল্লেখ করেছিলেন মমতা। অভিযোগ, ডিইও কিছু দিন আগে কোনও একজনকে বলেছিলেন, ‘গণনায় খেলা হবে।’ সেই সংক্রান্ত প্রমাণও তার কাছে আছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিইও-র বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

নিজ বাড়ি কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলন করে ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনাপ্রক্রিয়া নিয়ে যে সব অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা খারিজ করে দিলেন কলকাতা দক্ষিণের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ডিইও) রণধীর কুমার।

বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, মমতার সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং মনগড়া। মঙ্গলবার মমতার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিম। 


বিজ্ঞাপন


মমতা জানিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। রাজভবনে যাবেন না। তার দাবি, আদৌ হারেনি তৃণমূল, ভোট লুট করা হয়েছে। ১০০-র বেশি আসন লুট করে বিজেপি জিতেছে বলে অভিযোগ মমতার। 

তিনি জানিয়েছেন, দেশে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের হাত আরও শক্ত করবেন তিনি। তবে আগামী দিনে তৃণমূল কোন কৌশলে এগোবে, তা গোপনেই রাখতে চান দলনেত্রী।

মমতা জানিয়েছেন, ভারতে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে শক্তিশালী করাই এখন তার লক্ষ্য। ইতিমধ্যে জোটের নেতৃত্ব তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। 

সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীবাল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব, হেমন্ত সোরেনরা তাকে ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। 

মমতা বলেন, জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সবাই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।

মমতার দাবি, গণনাকেন্দ্রের ভিতর থেকে কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে ভোট লুট করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 

তার অভিযোগ, শুরু থেকেই বিজেপিকে এগিয়ে রাখায়, তারা ২০০ পেরিয়ে গিয়েছে বলে সম্প্রচার করায় ভোট চুরিতে বিজেপির সুবিধা হয়েছে। 

মমতা বলেন, কিছুক্ষণ গণনার পরেই বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাবুর বাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। 

রিটার্নিং অফিসারের কাছে তা নিয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। এই কারণেই পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, কেন লোক ভবনে গিয়ে পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর