ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে জিতেই রাজ্যের রাজধানী কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের অফিস ও নেতাকর্মীদের ঘরবাড়িতে ভাঙচুর শুরু করেছে বিজেপির উগ্রপন্থিকের্মীরা।
মিনাখা বিধানসভায় তৃণমূল জিতেছে। কিন্তু তার পরেও তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মহুয়া সরদার মাইতির বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
মহুয়ার অভিযোগ, সোমবার চার দিকে বিজেপির ফল ভাল হওয়ার পরে রাতে স্থানীয় বিজেপির কিছু বাহিনী তার বাড়িতে এসে চড়াও হয়।
তার বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাড়ি ভাঙচুর করে এমনকি তার মেয়েকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে মহুয়ার অভিযোগ।

এই বিষয়ে তিনি মিনাখা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। পাশাপাশি, তিনি এটাও জানিয়েছেন, যে তিনি রীতিমতো আতঙ্কিত।
বিজ্ঞাপন
জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনের কাছে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সিসি ক্যামেরায় ভাঙচুরের ঘটনা ধরা পড়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের সাবেক জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব ও তার স্ত্রী কাউন্সিলার লিপকা পাণ্ডবের ওপর হামলা হয়েছে। শহরের গণনা কেন্দ্রের সামনে গোলকুয়াচক এবং পঞ্চুরচকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন:
ছন্দকোণায় ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা যুব সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ১০টার সময় ঘাটাল মহকুমায় খড়ার পৌরসভা খোলা নিয়ে বিজেপির সবাই জমায়েত করে। অভিযোগ, তথ্য লোপাটের চেষ্টা চলছে। পরে পুলিশ এসে তালা লাগিয়ে দেয়। সেই চাবি বিজেপি নেতৃত্ব নিয়ে যায়। মঙ্গলবার খুলে দেবে পুলিশের সামনে বলে জানিয়েছেন ওই বিজেপি কর্মী।
জলপাইগুড়ির জেলার ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী বিধানসভার ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন কানকাটা মোরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েও চলে ভাঙচুর। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর চালান এবং নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় জ্বালিয়ে দেন।
দিনহাটা কলেজে ভোট গণনা চলাকালীন সোমবার দুপুর ২টার দিকে তৃণমূল এমপি জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। সেই সময় বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা তাকে ঘিরে ধরে অশালীন মন্তব্য করতে থাকেন।
পুলিশ তাকে নিজেদের গাড়িতে উঠিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নিতে গেলে, বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা জুতো দিয়ে ঢিল মারে তার গাড়িতে । বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ পুলিশের গাড়িতে করে এলাকা ছাড়েন তৃণমূল সাংসদ।
এদিকে, কোচবিহার শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের জেলা সভাপতি নির্বাচনে দলীয় কার্যালয় তৈরি করেছিলেন। তৃণমূলের সেই দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের পক্ষ থেকে।
ডানকুনিতেও তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর করে দখল নেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ডানকুনি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার চিন্ময় নন্দীর পার্টি অফিস ভাঙচুর করে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরেই তৃণমূলের অফিসে আক্রমণ করা হয়। যদিও চণ্ডীতলার তৃণমূল প্রার্থী স্বাতী খন্দকার জয়ী হয়েছেন।
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের বেড়ুগ্রামের দিঘিরপাড়ে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বিধায়ক নবীন বাগের অনুগামীরা কল্যাণ ঘোষের বাড়িতে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
নদীয়ার নবদ্বীপ থানার রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দখল করার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন দু’টি দোকান ঘর ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফলাফলের দিন নবদ্বীপ কেন্দ্র থেকে বিজেপি জয় লাভের পরই রেলগেট সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতকারীরা। কাগজপত্র বাইরে বার করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। একই সঙ্গে দখল করা হয় দলীয় কার্যালয়। গোটা ঘটনায় অভিযোগের তির বিজেপির দিকে।
শান্তিপুরের হরিপুর পঞ্চায়েতের নীলকুঠি পাড়া এলাকায়, বুকে পেসমেকার লাগানো এক তৃণমূলকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিজেপিকর্মীর বিরুদ্ধে।
তৃণমূল উপপ্রধানের বাড়ি ও বাইক ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই সোমবার সন্ধ্যায় বহরমপুর থানার চুঁয়াপুর কদমতলা বটতলা এলাকা দিয়ে ডিজে বাজিয়ে বিজেপির বিজয় মিছিল ভাকুড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডুর বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় বিজেপির বিজয় মিছিলে থাকা ব্যক্তিরা বিপ্লবের বাড়িতে ভাঙচুর চালান ও বাড়ির সামনে রাখা বেশ কয়েকটি বাইকে ভাঙচুর করেন এবং পেট্রোল ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ বিপ্লবের। ঘটনার খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরেও। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে তাণ্ডব চালান কয়েক জন। ঘটনার ভিডিওটি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল।
টালিগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে ৬ হাজার ১৩ ভোটের ব্যবধানে হারেন অরূপ বিশ্বাস। রাতেই তার বস্তি উন্নয়ন পর্ষদের অফিসের বাইরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে।
বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়ের পর থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নানা প্রান্তে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। কলকাতা থেকে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনার মতো নানা জায়গায় মারধর, তৃণমূল অফিস ভাঙচুর করা হচ্ছে।
দু’দফার ভোট নির্বিঘ্নে মিটেছে। কিন্তু সোমবার ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নানা জায়গায় এই অশান্তি শুরু হয়েছে।
-এমএমএস




