হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজে ইরানের সাতটি ‘দ্রুতগামী নৌকা’ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তাদের তেল অবকাঠামো ও একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে ছোট আকারের সাতটি নৌযানে (দ্রুতগতির নৌকা) হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এই অভিযান চালিয়েছে বলে তিনি জানান। তবে ইরান এ ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে অভিহিত করেছেন।
শিপিং কোম্পানি মারস্ক জানিয়েছে, তাদের একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং জাহাজটি নিরাপদে উপসাগর ত্যাগ করেছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে কোনো রাজনৈতিক সংকটের সামরিক সমাধান নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।’
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান উত্তেজনার কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ইউএই জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। পাশাপাশি ফুজাইরাহ বন্দরে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ইরান ইউএই-কে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইউএই বলেছে, তারা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে এবং ঘটনাটিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখার কথা জানিয়েছে।
এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্স হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে এবং যুক্তরাজ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রদের সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বহু জাহাজ আটকে পড়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, তবে বাধা এলে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করা হবে। সূত্র: বিবিসি।
এমআর




