আলোচনার কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। ভারতের এ রাজ্যে ক্ষমতার মসনদ কি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিই ধরে রাখবেন, নাকি আসতে চলেছে বিজেপির নেতৃত্ব- ভোটগ্রহণ শেষে এমন প্রশ্নই সবার মনে। উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাদেই।
নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ফলতা আসন ছাড়া বাকি ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা শুরু হবে। প্রথমে গোনা হবে পোস্টাল ব্যালট, এরপর খোলা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন- ইভিএম।
বিজ্ঞাপন
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোট গণনা অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর কঠোরভাবে নজর রাখা হচ্ছে।
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। কেবল কিউআর কোডভিত্তিক পরিচয়পত্র থাকলেই গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। কাউন্টিং অবজারভার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারবেন না।
তবে আগের তুলনায় এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমানো হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনা হয়েছিল ৯০টি কেন্দ্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তা বাড়িয়ে করা হয় ১০৮টি। এবার কলকাতাসহ রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে ভোট গণনা করা হচ্ছে, যার মধ্যে কলকাতায় পাঁচটি।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন ৪৩২ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তর চব্বিশ পরগনায় গণনা পর্যবেক্ষক রয়েছেন ৪৯ জন।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু পাল্লা কার ভারী? কে হাসবে শেষ হাসি?
বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে এবার ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে এবং ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। সেক্ষেত্রে মসনদ হারাতে পারে টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস।
২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে জোট সরকারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ওপার বাংলার নির্বাচনি সমীক্ষক যশোবন্ত দেশমুখ বলছেন, ‘একদিকে দেখছি সরকারবিরোধী মনোভাবের প্রাবল্য, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জির বিপুল জনপ্রিয়তা।’
তিনি বলেন, ‘যে রাজ্যে মোট ভোটারের এক–তৃতীয়াংশ সংখ্যালঘু মুসলমান, যারা এখনো বিজেপির প্রতিস্পর্ধী হিসেবে দিদিকেই (মমতা) আঁকড়ে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে নারীদের সমর্থন অটুট থাকলে পরিবর্তনের হাওয়া ওলট-পালট করে দেওয়া অসম্ভব হবে।’
অর্থাৎ নির্বাচনি সমীক্ষক যশোবন্ত দেশমুখ এটাই বোঝাতে চাইছেন, বুথফেরত জরিপ যতই বিজেপিকে এগিয়ে রাখুক না কেন, মমতা ব্যানার্জির জনপ্রিয়তা এবং মুসলিমদের ভোট আরও একবার বিজেপিকে ‘বোল্ড আউট’ করে দিতে পারে পশ্চিমবঙ্গ থেকে।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত মধ্য ও উচ্চবিত্ত হিন্দু বাঙালি পরিবর্তনের পক্ষে মোদির বিজেপির হাত ধরলেও সেই হাওয়া যে গোটা রাজ্যে সমভাবে বহমান, নিশ্চিতভাবে তা কেউ বলতে পারছে না। ফলে উত্তেজনা টান টান। শেষ পর্যন্ত কে হাসে শেষ হাসি, তা সময়ই বলে দেবে।
এএইচ




