রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনা কখন? কারা এগিয়ে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনা কখন? কারা এগিয়ে?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দুই দফা ভোটগ্রহণ শেষে এখন ফলাফলের অপেক্ষায় গোটা রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে শুরু হবে এ ভোট গণনা্, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ পরগোনা জেলার একটি আসনের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।


বিজ্ঞাপন


এর ফলে সোমবার বাকি ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা করা হবে। বুথফেরৎ একাধিক জরিপ বলছে, ২৩০টির বেশি আসনে তৃণমূল জিতবে এবং চতুর্থবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন মমতা ব্যাণার্জী।

অন্যদিকে, বিজেপি ৫০ থেকে ৬০টি আসন পেতে পারে বলেও জরিপে উঠে এসে। কংগ্রেস মাত্র ৩ থেকে ৫টি এবং বামফ্রন্ট মাত্র ১টি আসন পেতে পারে বলে বুথফেরৎ জরিপে উঠে এসেছে। 
   
ভোট গণনা প্রক্রিয়া নিয়েও ক্ষতাসীন দলের অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের মূল অভিযোগ, ভোট গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজার বা তার সহকারী বা অন্য গণনাকর্মী হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। 

তাদের আবেদন ছিল, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারে না। হাইকোর্টে সেই মামলা খারিজ করেছিল। তার পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল তৃণমূল। শনিবার বিচারপতি নরসিংহ এবং বিচারপতি বাগচীর বেঞ্চে ছিল শুনানি। সেখানে তৃণমূলের হয়ে শুনানি করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল, আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ছিলেন দামা শেষাদ্রি নাইডু।

এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারি কর্মীও হতে পারেন। সুতরাং, যখন এই বিকল্পটি নিয়মেই রয়েছে, তখন আমরা বলতে পারি না যে এই নোটিফিকেশনটি (কমিশনের) বিধি-বিরোধী।


বিজ্ঞাপন


তার পরেই বিচারপতি বাগচী বলেন, কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী থাকবেন। এতে কোনও নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না।

তৃণমূল দাবি করেছে, কমিশন সার্কুলার মেনে কাজ করছে না। তাতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যদি সার্কুলারে এমনটা বলা থাকত, তবুও আমরা তাতেও কোনও অন্যায় দেখতাম না। কারণ, নিয়মেই বলা আছে— কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের কর্মীকে এই পদে নিয়োগ করা যেতে পারে।

তৃণমূলের আইনজীবী যুক্তি দেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে থেকে এলোমেলো ভাবে বাছাই হওয়া উচিত ছিল। তাতে বিচারপতি নরসিংহ বলেন, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের আলাদা হিসাবে দেখার মধ্যে আর একটি ভ্রান্তি রয়েছে। আসলে তারা সবাই সরকারি কর্মচারী।

তার পরেই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের মামলায় তারা এখনই কোনও নির্দেশ দিতে রাজি নয়। কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। অতিরিক্ত কোনও নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই আপাতত।

শুনানির শুরুতে তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সওয়াল করে বলেন, আমাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে নোটিস জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেটা জানতে পারি ২৯ তারিখে। কমিশন আশঙ্কা করছে—প্রত্যেকটি বুথে নাকি সমস্যা বা অশান্তি হতে পারে। কিন্তু এই ধারণা তারা কোথা থেকে পাচ্ছে? এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

কমিশনের আইনজীবী বলেন, গণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারেরই কর্মকর্তা। তা ছাড়া, প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট গণনায় থাকবেন। তাই মামলায় যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সুপ্রিম কোর্টের মামলা নিয়ে পরে তৃণমূলের তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী বলে তৃণমূল মনে করে। 

শীর্ষ আদালতকে সেটা জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ সংক্রান্ত কমিশনের ১৩ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তিটির ১ নম্বর ধারা, ওই বিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় উল্লিখিত একটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। 

সেখানে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনের বিধান রয়েছে। আদালতে শুনানির পর তৃণমূল আশা করছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ভোটগণনার প্রক্রিয়া স্বাধীন, স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ ভাবে হবে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর