ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার জন্য বেলারুশকে আবারও সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের সীমান্তে ‘অস্বাভাবিক কার্যকলাপ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যে কেউ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াবে, তাকে এর পরিণতি বুঝতে হবে।
বিজ্ঞাপন
গত মাসেও তিনি বেলারুশকে সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া তাদের যুদ্ধে টানার চেষ্টা করতে পারে। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া বেলারুশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে এবং সীমান্তে নতুন রাস্তা ও আর্টিলারি অবস্থান তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করলে বেলারুশের দিক থেকেও সেনা অগ্রসর হয়, যদিও দেশটি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
খেরসনে ‘নৃশংস হামলা’, বিভিন্ন শহরে ড্রোন আক্রমণ
জেলেনস্কি জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে একটি নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ড্রোন দিয়ে বেসামরিক যানবাহন লক্ষ্যবস্তু করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মিনিবাসে হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া আরও কয়েকটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। একটি ড্রোন শক্তি অবকাঠামোয় আঘাত হানলেও পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
ফ্রন্টলাইনে অগ্রগতির দাবি রাশিয়ার
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা মাইরোপিলিয়া গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর আগে তারা দোনেৎস্ক অঞ্চলের নোভোমিত্রিকভা দখলের কথাও জানায়।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান সিরস্কি বলেন, রুশ বাহিনী কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্টিয়ানটিনিবার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এপ্রিল মাসে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ড্রোন যুদ্ধের নতুন ধাপ
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার রাশিয়া ৪০০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও পাল্টা হামলায় রাশিয়ার তুয়াপস বন্দরে গত ১৬ দিনের মধ্যে চতুর্থবারের মতো আঘাত হেনেছে।
জেলেনস্কির ভাষায়, এটি ইউক্রেনের অস্ত্র ব্যবহারের “নতুন ধাপ”, যার লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা সীমিত করা।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরএম




