শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে বরখাস্ত করতে চান ইরানের প্রেসিডেন্ট!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে বরখাস্ত করতে চান ইরানের প্রেসিডেন্ট!

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে অপসারণের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। 

একাধিক সূত্রের বরাতে ইরানে নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমটি জানায়, পেজেশকিয়ান এবং গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে পাশ কাটিয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশনা অনুসরণ করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি। 


বিজ্ঞাপন


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই দুই নেতা মনে করেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে আরাঘচি তাদেরকে একঘরে করে রেখেছেন এবং সরকারি নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রীর চেয়ে আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ভাহিদির সহযোগী হিসেবেই বেশি কাজ করছেন। এতে হতাশ হয়ে পেজেশকিয়ান তার সহযোগীদের বলেছেন, এমনটা চলতে থাকলে তিনি আরাঘচিকে বরখাস্ত করবেন। 

যদিও এ বিষয়ে ইরান কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। 

ইরানের নেতৃত্বে কী ফাটল ধরেছে?

ইরানে সরকারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে এমন গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে সর্বশেষ দাাবি এটি। 


বিজ্ঞাপন


গত ২৮ মার্চ ইরান ইন্টারন্যাশনাল পেজেশকিয়ান এবং ভাহিদির মধ্যে মতবিরোধের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই বিরোধের মূল কারণ হলো ‘যুদ্ধ পরিচালনা এবং জনগণের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির ওপর এর ধ্বংসাত্মক পরিণতি’।

এছাড়াও গত ১৫ এপ্রিল ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম জানায়, আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের একটি চুক্তি করার পূর্ণ কর্তৃত্ব না থাকায় আমেরিকানরা হতাশ হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শর্ত ছিল- যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য তেহরানের আলোচকদের অবশ্যই আইআরজিসির কাছ থেকে পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকতে হবে। তবে আইআরজিসির দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আহমদ ভাহিদি এবং আলী আবদুল্লাহি পাকিস্তানে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলকে আমেরিকানদের কাছে কোনো জবাব দিতে দেননি। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে, ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া গালিবাফের কাছে একটি অবস্থান নেওয়ার এবং ‘ইরানকে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক পতন’ থেকে বাঁচানোর আহ্ববান জানান পেজেশকিয়ান। 

এছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কাঠামো এবং দেশটির ক্ষমতা আসলে কার হাতে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

গত বৃহস্পতিবারও নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান তাদের নেতা কে, তা নির্ধারণ করতে খুব হিমশিম খাচ্ছে! তারা জানেই না।’ 

ইরানের ভেতরে কট্টরপন্থী এবং মধ্যপন্থী নেতাদের মধ্যে এখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়া ‘কট্টরপন্থী’ এবং মোটেও মধ্যপন্থী নয় (বরং সম্মান অর্জনকারী!) ‘মধ্যপন্থীদের’ মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে, যা এক ধরণের পাগলামি!’

সূত্র: এনডিটিভি


এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর