বৈশ্বিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে গত বছরের তুলনায় আরও তিন ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। সূচকে এবারও বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিস্থিতি বেশ ‘গুরুতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্বজুড়ে তথ্যের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থা- রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২৬ সালের এই সূচক প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। ২০২৫ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। সে সময় স্কোর ছিল ৩৩ দশমিক ৭১।
আরএসএফ বলছে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং মূলধারার গণমাধ্যমে তাদের প্রবেশাধিকার খুবই সীমিত। তবে সংবাদ ও তথ্য প্রচারে ইন্টারনেটের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এবারের সূচকে ৬ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত। ১৫১তম থেকে ১৫৭তম অবস্থানে আছে দেশটি। তবে অগ্রগতি হয়েছে পাকিস্তানের। গতবছরের তুলনায় ৫ ধাপ এগিয়ে ১৫৩তম অবস্থানে আছে দেশটি। এছাড়া শ্রীলঙ্কা ১৩৪তম, মালদ্বীপ ১০৮তম, ভুটান ১৫০তম ও নেপাল ৮৭তম অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে গতবারের মতো এবারের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে সবার শীর্ষে রয়েছে উত্তর ইউরোপের দেশ নরওয়ে, স্কোর ৯২ দশমিক ৭২। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে দখল করেছে নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া।
বিজ্ঞাপন
সূচক অনুযায়ী, বিশ্বে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া (১৮০তম)। দেশটির স্কোর ১৬ দশমিক ৬৮। এছাড়াও দ্বিতীয় উত্তর কোরিয়া (১৭৯তম), তৃতীয় চীন (১৭৮তম), চতুর্থ ইরান (১৭৭তম), পঞ্চম সৌদি আরব (১৭৬তম)।
অন্যদিকে এবারের সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৬৪তম, রাশিয়ার ১৭২তম।
উল্লেখ্য, আরএসএফ পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিমাপ করে। এরমধ্যে রয়েছে—
১. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: গণমাধ্যমের ওপর সরকারের চাপ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা।
২. আইনি কাঠামো: সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা, আইনের অপব্যবহার ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের নিশ্চয়তা।
৩. অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: মিডিয়া মালিকানা, সরকারি বা করপোরেট চাপ ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা।
৪. সামাজিক প্রেক্ষাপট: সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সামাজিক চাপ, মতাদর্শিক বা ধর্মীয় বাধা।
৫. নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, হুমকি ও আক্রমণের ঝুঁকি।
সূত্র: আরএসএফ
এমএইচআর




