ইরানের পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দেশের ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করে তা যেকোনো মূল্যে রক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
বৃহস্পতিবার ১৬২২ সালে হরমুজ প্রণালি থেকে পর্তুগিজ বাহিনীকে বিতাড়নের স্মরণে পালিত জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে জারি করা এক বার্তায় তিনি নেতা একথা বলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার এই বিবৃতি পাঠ করে শোনানো হয়।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতাগুলো ধ্বংস করতে চান উল্লেখ করে বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ইরানিরা তাদের পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে। দেশের জল, স্থল এবং আকাশসীমার মতো এগুলোকেও তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাহারা দেবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকানদের অবস্থানই এ অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ।
ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো সামর্থ্য নেই। সুতরাং যারা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দেবে, তাদের সেই আশা বৃথা।’
১৬২২ সালে পর্তুগিজ সৈন্যদের বিতাড়নসহ ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ হরমুজ প্রণালি বিগত শতাব্দীগুলোতে বহু শয়তানের লোভ জাগিয়ে তুলেছে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ইরানিরা তাদের নিজেদের চোখে... ইরানি বাহিনীর দৃঢ়তা, সতর্কতা এবং সাহসী সংগ্রামের সুন্দর প্রকাশ প্রত্যক্ষ করেছে।’
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে খামেনি আরও বলেছেন, ‘যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণাণিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আল্লাহর সাহায্যে ও শক্তিতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হবে যুক্তরাষ্ট্রবিহীন এক ভবিষ্যৎ, যা এখানকার জনগণের অগ্রগতি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সমৃদ্ধিতে নিয়োজিত থাকবে।’
খামেনি আরও বলেন ‘পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের জলরাশির ওপারে আমরা এবং আমাদের প্রতিবেশীরা একই ভাগ্যের অংশীদার। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে লোভ ও বিদ্বেষ নিয়ে সেখানে কাজ করতে আসা বিদেশিদের সেখানে কোনো স্থান নেই, সাগরের তলদেশ ছাড়া’।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পরে গত ৮ মার্চ ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা) ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখনো জনসম্মুখে আসেনি মোজতবা। তবে লিখিত বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এদিকে ইরানি এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় মোজতবার একটি পা উড়ে গেছে, একটি বাহু গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মুখমণ্ডল এবং ঠোঁট গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে, ফলে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে তার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য মোজতবা খামেনির প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, রয়টার্স
এমএইচআর




