বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জনগণকে ‘বাকিতে কেনাকাটার’ সুযোগ দিচ্ছে ইরান 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

জনগণকে ‘বাকিতে কেনাকাটার’ সুযোগ দিচ্ছে ইরান 

ইরানে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের জনগণ এখন প্রাত্যহিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরকারি জামানতে ‘বাকিতে কেনাকাটার’ সুযোগ দিয়েছে ইরান সরকার। 

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সরকার নতুন একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যার আওতায় নাগরিকরা বাকিতে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন, আর ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে সরকার সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


বিজ্ঞাপন


পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা সরকারি সহায়তা পায়—এমন পরিবারগুলো প্রতি দুই মাসে একবার দোকান থেকে মৌলিক পণ্য বাকিতে কিনতে পারবে, যার মূল্য তাদের প্রাপ্ত সহায়তার অঙ্কের বেশি হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার অর্থায়ন করা হবে বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে।

ইতোমধ্যেই পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানগুলোতে ‘বাকিতে কেনাকাটার’ পুরোনো ঐতিহ্য আবার ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ সারা মাস প্রয়োজনীয় সওদা করে খাতায় নাম তুলে রাখছেন এবং মাস শেষে বেতন পেলে তা পরিশোধ করছেন।

ইরানের বৃহৎ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ডিজিকালা এবং ফিনটেক সেবা স্ন্যাপ পে বর্তমানে চাল, ভোজ্য তেল ও দইয়ের মতো পণ্যেও ‘এখন কিনুন, পরে পরিশোধ করুন’ (বিপিএনএল) সুবিধা দিচ্ছে। এমনকি কোনো গ্যারান্টর বা চেক ছাড়াই এই কিস্তি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


অনেক কসাইখানায় এখন কিস্তিতে মুরগি বা গরুর মাংস কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিছু দোকানে ‘যুদ্ধের পরে দাম দেওয়ার’ সুযোগ দিয়ে ব্যানারও টাঙানো হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ব্যবস্থাটি আপাতদৃষ্টিতে জনগণের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক মনে হলেও, এটি মূলত ইরানের অর্থনীতির চরম দেউলিয়াত্ব এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসারই প্রতিফলন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময় এক ডলার বিপরীতে তখন ১৭ লাখ রিয়াল পাওয়া গেলেও বুধবার এই বিনিময় হার দাড়িয়েছে ১৮ লাখ রিয়ালে এক ডলার।

পরিস্থিতি বিবেচনায় তেহরানভিত্তিক পত্রিকা ‘ডোনিয়া-ই-ইকতেসাদ’ চলতি বছরে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ে তিনটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস তুলে ধরেছে।

পত্রিকাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়, তাহলে সর্বোত্তম পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪৯ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে।

দ্বিতীয়ত, যদি ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে—যেমনটি গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের পর এবং এ বছর মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার আগে দেখা গিয়েছিল—তাহলে মূল্যস্ফীতি ৬৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আর যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার নিলে ইরান অতিমূল্যস্ফীতির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ১২৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর