জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে নয়জনকে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে, ১০ জনকে বিরোধী বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় এবং ২ জনকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ওএইচসিএইচআর আরও জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে আরও ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও অসংখ্য আটক ব্যক্তি জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন কিংবা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর আচরণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় এবং মৃত্যুর ভয় দেখানোর মতো ঘটনাও রয়েছে।
এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘আমি স্তম্ভিত যে, যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবের পাশাপাশি ইরানি কর্তৃপক্ষ কঠোর ও নৃশংস উপায়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের সময় মানবাধিকারের হুমকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তবুও, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দেওয়া হলেও, কেবল একান্ত প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক ক্ষেত্রেই মানবাধিকার সীমিত করা যেতে পারে’।
তিনি বলেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করে, মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে, যথাযথ প্রক্রিয়া ও সুষ্ঠু বিচারের নিশ্চয়তা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করে এবং অন্যায়ভাবে আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়।’
ওএইচসিএইচআর সতর্ক করে আরও বলেছে, দেশটিতে জাতীয় নিরাপত্তা অপরাধের ব্যাপক ও অস্পষ্ট সংজ্ঞার অধীনে শিশুসহ বহু মানুষ মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ ইরান। দেশটিতে হত্যা, ধর্ষণ ও গুপ্তচরবৃত্তির মতো অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সাধারণত ভোরবেলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সূত্র: আলজাজিরা, আরব নিউজ
এমএইচআর




