বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু

মমতা–শুভেন্দুর ভাগ্য নির্ধারণ আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

মমতা–শুভেন্দুর ভাগ্য নির্ধারণ আজ
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে অপেক্ষায় ভোটাররা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে। এটি রাজ্যের নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পর্ব।  অর্থাৎ আজই নির্ধারণ হয়ে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির মুখ শুভেন্দু অধিকারীর ভাগ্য।

যদিও ভোর থেকেই ভোট নিয়ে নানান অভিযোগের কথা শোনা গেছে। বিভিন্ন স্থানে ইভিএম ‘ত্রুটি’ ও সহিংসতার খবর প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে।


বিজ্ঞাপন


এই ধাপ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগের পর্বের চেয়েও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। 

এই দফায় ভোট হচ্ছে রাজ্যের রাজধানী কলকাতার ১১টি আসনসহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা তৈরি করেছিল এক বড় শিরোনাম, নজিরবিহীন ৯২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি। 

এরপরই বিজেপি ও তৃণমূল শিবিরে শুরু হয় এই উপস্থিতিক নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা করার প্রতিযোগিতা। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দফার ফল কি নতুন কোনো চিত্র তৈরি করে কিনা।


বিজ্ঞাপন


দক্ষিণবঙ্গ মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাঁটি। এখানে দলটির কল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রভাব স্পষ্ট, আর এই অঞ্চলের অধিকাংশ আসন জয়ের ব্যাপারে দলটি আত্মবিশ্বাসী। এই দফায় যে ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে সেখানে তৃণমূল পেয়েছিল ১২৩টি আসন, বিজেপি ১৮টি এবং বামফ্রন্ট ১ টি।

তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটি ভাঙা এখন বিজেপির বড় চ্যালেঞ্জ। দলটি সূত্র অনুযায়ী পরিসংখ্যানের ওপর ভরসা রেখে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। যেখানে আগে তারা এগিয়ে ছিল, সেই আসনগুলোকে কেন্দ্র করে তারা কৌশল তৈরি করেছে। 

তাদের আশা, এর মাধ্যমে প্রথম দফার ফল এবং ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের ব্যবধান কমানো যাবে।

বিজেপির কৌশলে রয়েছে কঠোর রাজনৈতিক ইস্যু—চাকরি, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং নারীর নিরাপত্তা। এর পাশাপাশি কলকাতার খানাখন্দে ভরা রাস্তা নিয়ে কটাক্ষ এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে যেন ঝালমুড়ির মতোই মশলাদার এক মিশ্রণ, যাতে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদিও।

জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা তুলে ধরেছেন ‘বহিরাগত’ তকমা, রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, এসআইআর এবং ‘সবজি বাজার।’ তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম। কিছু এলাকায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তৃণমূলের জয় ব্যবধানের চেয়েও বেশি।

সবচেয়ে বড় লড়াই হচ্ছে কলকাতার ভবানীপুরে। এই আসনে বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে। 

তাদের আগের নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের ফলাফলের কারণে এই মর্যাদার লড়াই সবার নজর কাড়ছে। 

মমতা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় দক্ষিণ কলকাতার এই আসন থেকে ৫১ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই আসনে ২১ সালের নির্বাচনে ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মমতা। 

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর