মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

চীন-রাশিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

চীন-রাশিয়ার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: এআই

রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের কাছে থাকা হাইপারসনিক অস্ত্র বা উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মতো কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে নেই। 

মার্কিন কংগ্রেসে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণাধীন পরবর্তী প্রজন্মের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ক শুনানিতে এই তথ্য জানান দেশটির মহাকাশ নীতি বিষয়ক সহকারী প্রতিরক্ষমন্ত্রী মার্ক বার্কোভিটজ।  


বিজ্ঞাপন


সিনেটকে বার্কোভিটজ আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা এখন আমাদের মাতৃভূমিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার উদ্দেশ্যে হাইপারসনিক এবং দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ নন-ব্যালিস্টিক অস্ত্র তৈরি করছে’।

সীমিত ক্ষমতা

দেশের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের একটি অত্যন্ত সীমিত ভূমি-ভিত্তিক একক-স্তরীয় অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা বিশেষভাবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে একটি ছোট আকারের বেপরোয়া হামলা মোকাবেলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।’ 

বার্কোভিটজ উল্লেখ করেন, ‘অন্য যেকোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবেলা করার সক্ষমতা আমাদের খুবই সীমিত, এবং যদি আমরা উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বললে হাইপারসনিক অস্ত্র বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধেও বর্তমানে আমাদের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।’ 


বিজ্ঞাপন


চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই কঠোর মূল্যায়নটি সামনে এসেছে, যা ওয়াশিংটনকে তার অভ্যন্তরীণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি স্বীকার করতে বাধ্য করছে।

গোল্ডেন ডোম কখন প্রস্তুত হবে?

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি ব্যাপক অভ্যন্তরীণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। 

প্রস্তাবিত এই সিস্টেমটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ বিলিয়ন থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। এর লক্ষ্য হলো, স্থল, সমুদ্র, আকাশ এবং মহাকাশ জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত কমান্ড সিস্টেম ও ইন্টারসেপ্টরকে সমন্বিত করা। এটি গতিশক্তি-চালিত ও গতিশক্তি-বিহীন প্রতিক্রিয়া এবং মহাকাশ-ভিত্তিক সেন্সরের পাশাপাশি অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তিকে একত্রিত করে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আধুনিক ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্রের মতো সব ধরনের আকাশপথে হুমকি মোকাবেলায় সুরক্ষা প্রদান করবে। 

ট্রাম্পের গোল্ডেন ডোম বিষয়ক প্রধান, স্পেস ফোর্সের জেনারেল মাইকেল গেটলেইন বলেছেন, এর লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে গোল্ডেন ডোমকে একটি কার্যকর সক্ষমতায় নিয়ে আসা, যার জন্য স্বল্পমেয়াদে ১৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের অনুরোধ করা হয়েছে। ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত এই কর্মসূচির মোট আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উৎপাদন ক্ষমতার ঘাটতি

এদিকে এই শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির গভীরতর কাঠামোগত সমস্যাগুলোও উন্মোচিত হয়েছে। 

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সংস্থার পরিচালক ও দেশটির বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিথ এ কলিন্স দাবি করেছেন, বছরের পর বছর ধরে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের ফলে দেশটি এক ধরনের উৎপাদন ক্ষমতার ঘাটতিতে ভুগছে, যা ইন্টারসেপ্টর তৈরি এবং উচ্চ-তীব্রতার সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতাকে সীমিত করে দিচ্ছে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রসারিত করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ

এদিকে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অর্থায়নের পদ্ধতি উভয় নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং প্রচলিত বরাদ্দ পদ্ধতির বাইরে একটি সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এটিকে ‘একটি বিরাট ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে এটি কংগ্রেসের তদারকি কমিয়ে দেয়।

কিং কর্মকর্তাদের কাছে আরও জানতে চান, পারমাণবিক প্রতিরোধের দীর্ঘস্থায়ী মতবাদটি এখনও যথেষ্ট কি না। 

জবাবে বার্কোভিটজ বলেন, বর্তমান কৌশলগত পরিবেশ শীতল যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি জটিল এবং তিনি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিদ্বন্দ্বীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।

তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিপূরক হবে এবং প্রতিরোধ ব্যর্থ হলে নিরাপত্তা জোরদার করতে ও বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে এটি ‘তরবারি ও ঢাল উভয়ই’ হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর