ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চলমান থাকা অবস্থায় স্থায়ীভাবে শান্তির বিষয়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার শনিবারই (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তবে দ্বিতীয় দফার আলোচনাও ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার এই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তেহরান আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাতে চলমান সংঘাত অবসানে নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরির জন্য আরও কিছুটা সময় পায় ইরান।
বিজ্ঞাপন
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আলোচনার পথে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এই সংকট নিরসনে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে তারা সেখানে কতটুকু সফল হবেন, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য সেখানে এসেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় তিনি অংশ নেবেন না।
এর অর্থ হলো, ইরান কোনো বার্তা পাঠাতে চাইলে তা পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই পৌঁছাতে হবে। তাই এই পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত কোনো বড় ধরনের সাফল্যের সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিজ্ঞাপন
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ অবসানে চুক্তির জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিজ দেশে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
এদিকে জিনিউজের খবরে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর শুরুর আগে তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে।
শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ইরানের সংবাদমাধ্যম ইসনা (আইএসএনএ) বলেছে, বর্তমানে আমাদের সামরিক শক্তি একটি প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। শত্রু এখন যুদ্ধের এ চোরাবালি থেকে বাঁচতে এক সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজছে, যেখানে তারা আটকা পড়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই মন্ত্রীই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে, উত্তেজনা কমাবে ও বর্তমান সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করবে।
জেবি




