ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আজ রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সফরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সরকার।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একটি আঞ্চলিক সফরে অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আজ পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, ওমানের মাসকাট এবং রাশিয়ার মস্কো সফরে যাচ্ছেন’।
বিজ্ঞাপন
এতে আরও বলা হয়, ‘এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করা এবং বর্তমান আঞ্চলিক ঘটনাবলি, সেইসাথে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসী যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা’। তবে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো শান্তি আলোচনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে পাকিস্তানের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি ছোট প্রতিনিধি দল আজ শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেই উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, ‘এগুলো ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতির অংশ। আমরা দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’
এরআগে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে এক ফোনালাপে মতবিনিময় করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বিজ্ঞাপন
পোস্টে বলা হয়, ‘উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ঘটনাবলী, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।’
এতে আরও বলা হয়েছে, ইসহাক দার তার পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিরসনে দ্বিতীয় দফার সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
ফোনালাপে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ ব্যাপারে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক সহায়ক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন আরাঘচি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েকদিনে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির মার্কিন ও ইরানি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে, বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণীল বন্ধ করে দেওয়া এবং দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য প্রত্যাশিত দ্বিতীয় দফার আলোচনা বিলম্বিত হয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, ডন
এমএইআ




