ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতাদের লক্ষ্য করে নতুন হামলার নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বিজ্ঞাপন
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পেন্টাগন বিবেচনাধীন বেশ কয়েকটি হামলার পরিকল্পনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে থাকা ইরানি সামরিক সক্ষমতার ওপর বিশেষ ‘ডাইনামিক টার্গেটিং’ বা গতিশীল লক্ষ্যবস্তুতে হামলাও অন্তর্ভুক্ত আছে। মূলত, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ছোট দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌকা, মাইন পাতা জাহাজ এবং অন্যান্য নৌযানগুলোতে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলো তেহরানকে কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সাহায্য করেছে।
সিএনএন আগেই জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ অক্ষত রয়েছে। ইরানের কাছে অসংখ্য ছোট নৌকা রয়েছে, যেগুলো জাহাজের ওপর হামলা চালানোর প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা হরমুজ প্রণালি খোলার মার্কিন প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলগত এই জলপথগুলোর আশেপাশে আরও অনেক বেশি বোমা হামলা অভিযান চালানো হবে। এছাড়াও ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে বাধ্য করার প্রচেষ্টায় দেশটির জ্বালানি স্থাপনাসহ ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী হুমকিও বাস্তবায়ন করতে পারে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের তৈরি করা আরেকটি বিকল্প হলো- ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক এবং রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা, যারা সক্রিয়ভাবে আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন বলে চিন্হিত করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
একটি সূত্র জানায়, নতুন তালিকায় আইআরজিসির কমান্ডার আহমদ ভাহিদিও রয়েছেন।
পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে আমরা ভবিষ্যৎ বা কাল্পনিক গতিবিধি নিয়ে আলোচনা করি না। মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে এবং সব বিকল্পই বিবেচনাধীন রয়েছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতাসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা ‘বিভক্ত’ হয়ে পড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবারও ট্রুথ স্যেশালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরান তাদের নেতা কে, তা নির্ধারণ করতে খুব হিমশিম খাচ্ছে! তারা জানেই না।’
ইরানের ভেতরে কট্টরপন্থী এবং মধ্যপন্থী নেতাদের মধ্যে এখন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়া ‘কট্টরপন্থী’ এবং মোটেও মধ্যপন্থী নয় (বরং সম্মান অর্জনকারী!) ‘মধ্যপন্থীদের’ মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে, যা এক ধরণের পাগলামি!’
পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “হরমুজ প্রণালির উপর আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ এতে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না। যতক্ষণ না ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছে, ততক্ষণ এটি ‘কঠোরভাবে বন্ধ’ থাকবে!!”
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতার হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়। তবে গত মার্চের শুরুতে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তাকে এখনো জনসমক্ষে কিংবা সাম্প্রতিক কোনো ভিডিও বা ছবিতে দেখা যায়নি।
দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনাকারীরা মোজতবা খামেনির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। তিনি সরাসরি আলোচনার বিষয়ে কোনো কথা বলেননি, তবে তার নামে প্রচারিত সাম্প্রতিক বার্তাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করছে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের যে দলটি, তাতে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে বেশ সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। গালিবাফের সাথে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি যুদ্ধে তাদের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাকে হারানোর পর তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল সরকার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএইআ




