শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ভারতীয়দের নিয়ে ট্রাম্পের ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য, দিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ভারতীয়রা শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে’, যা বলল ভারত

ভারত ও চীনকে ‘জাহান্নাম’ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টে মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্টের ভিডিও ও চিঠি ছিল, যেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল ভারত ও চীনের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসে ‘নবম মাসে একটি শিশুর জন্ম দিতে’। বিতর্কিত এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। 

বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে এইসব মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে এবং সেগুলোকে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘এই মন্তব্য নিশ্চয়ই ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না, যা দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মন্তব্যগুলো দেখেছি, এবং এর জবাবে মার্কিন দূতাবাসের জারি করা পরবর্তী বিবৃতিটিও দেখেছি। মন্তব্যগুলো স্পষ্টতই অজ্ঞতাপ্রসূত, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ। এগুলো অবশ্যই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না, যা দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’ 

mea

এরআগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের শেয়ার করা ‘স্যাভেজ নেশন’ নামের ওই পডকাস্টে মার্কিনিদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করতে গিয়ে স্যাভেজ অভিযোগ করেন, “এই দুটি এশীয় দেশের (ভারত-চীন) মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসে ‘নবম মাসে একটি শিশুর জন্ম দিতে’, এবং এই আইন তাদেরকে ‘তাৎক্ষণিক’ মার্কিন নাগরিকে পরিণত করে। ‘তারপর তারা চীন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনো জাহান্নাম জায়গা থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।”


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অ-নাগরিকদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার ধারণার সমালোচনা করেছেন এবং বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে একটি জাতীয় গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতীয় ও চীনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপধারী গ্যাংস্টার’ বলেও উল্লেখ করে স্যাভেজ দাবি করেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকে পদদলিত করেছে। সব মাফিয়া পরিবার মিলে যা করেছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি ওরা এই জাতির করেছে। এটা আমার বিনীত মতামত। ল্যাপটপ হাতে গ্যাংস্টাররা। ওরা আমাদের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে, আমাদের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মতো ব্যবহার করেছে, আমাদের পতাকার ওপর পা মাড়িয়েছে, ইত্যাদি।’ 

এই রেডিও উপস্থাপক আরও দাবি করেন, তিনি একসময় ভারতীয়দের একজন বড় সমর্থক ছিলেন যতক্ষণ না, তিনি উপলব্ধি করেন যে তাদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো হাই-টেক কোম্পানিতে শ্বেতাঙ্গদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ‘শূন্য’। কারণ এসব কোম্পানিতে প্রায় সমস্ত অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ভারতীয় ও চীনাদের দ্বারা পরিচালনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। 

এদিকে ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে  একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস। 

এতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প বিশ্বাস করেন ভারত একটি মহান দেশ, যার শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছেন (মোদি) এবং তার একজন ভালো বন্ধু’।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর