সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানকে অস্ত্র তেরির সরঞ্জাম ও উপাদান সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে ইরান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে দুবাই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চাবোক এফজেডসিও, যদের বিরুদ্ধে ইরানের বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের জন্য ‘সেন্সর ও অন্যান্য মার্কিন বিমান যন্ত্রাংশ’ সংগ্রহের অভিযোগ এনেছে মার্কিন সরকার।
এছাড়াও ইরানি অর্থ বিনিময়কারী কামাল সাবাহ বালখকানলু এবং এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে তেহরানের পক্ষে ‘অস্ত্র বা অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ বা পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে, যার মাধ্যমে তিনি যুদ্ধ শেষ করার জন্য বড় ধরনের ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াতে চাইছেন। যেকোনো ভবিষ্যৎ চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাতে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য ইরানি প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে, ‘ইকোনমিক ফিউরি’ (ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করা) কর্মসূচির অংশ হিসেবে, ইরান ও তাদের সহায়তাকারীদের অর্থের উৎস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইরানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে আরোপ করা হলো যখন পাকিস্তানে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ নিজেদের বন্দরের ওপর চলমান মার্কিন অবরোধের কারণে তেহরান এতে অংশ নিতে রাজি হচ্ছে না।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে জানান, তিনি প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আজ বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।
যদিও মঙ্গলবার সিএনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চান না বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন। কিন্তু হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করে বুধবার ভোরে এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষাণা দেন, ‘যতক্ষণ না ইরানের নেতারা ও প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে’।
এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




