বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অস্ত্র রফতানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

অস্ত্র রফতানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল জাপান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রায় আট দশকের নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিল জাপানের সানায়ে তাকাইচি সরকার। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাপানের মন্ত্রিসভা মারণাস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তার এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনো দেশের পক্ষেই আর একা একা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা সম্ভব নয়। 

একই সঙ্গে তাকাইচি সমাজমাধ্যমে আরও জানিয়েছেন যে, যু্দ্ধাস্ত্র সংক্রান্ত নীতির ক্ষেত্রে আগের অবস্থান থেকে জাপান সরে এলেও শান্তি বজায় রাখার জন্য তার দেশ বিগত ৮০ বছর ধরে যে নীতি অনুসরণ করে এসেছে, তার প্রতি তার সরকার আগের মতোই দায়বদ্ধ থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকা, ব্রিটেনসহ মোট ১৭টি দেশে যুদ্ধাস্ত্র বেচতে পারবে জাপান সরকার। বর্তমানে সামরিক সংঘর্ষে জড়িত কোনও দেশকে তারা এই সরঞ্জাম বেচতে পারবে না বলেও জানা গিয়েছে। 

কিন্তু জাপান সরকারের শীর্ষ কিছু কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলিকে জানিয়েছে, ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধরত কোনও দেশকে চাইলে জাপান সমরাস্ত্র বিক্রি করতে পারে, তবে তা শর্ত সাপেক্ষে। 


বিজ্ঞাপন


তাকাইচি আরও জানিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে তার প্রশাসন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে। 

নতুন নীতির ফলে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে নতুন দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেও সে দেশকে অস্ত্র বিক্রি করতেপারবে জাপান।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে সাতশো কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল জাপান। আর তার ঠিক পরপরই দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিল টোকিও।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, অ্যান্টনি অ্যালবানেজ সরকারকে মোট ১১টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ করবে তাকাইচি সরকার। 

নতুন নীতির আওতায় ঠিক কী কী ধরনের সমরাস্ত্র জাপান বিক্রি করবে, তা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলির দাবি, রণতরী, যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রও রফতানি করতে চলেছে তারা।

জাপানের মুখ্য ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বৃৃদ্ধির জন্যই তাদের সরকার এত বছরের পুরনো নীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

এ দিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করেছেন জাপানের সাধারণ নাগরিকদের একাংশও। তাকাইচির মন্ত্রিসভা যে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, তার আঁচ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। 

গত রোববার তাই রাজধানী টোকিওতে বিশাল এক প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন ৩৬ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। 

জাপানের পার্লামেন্টের সামনে হওয়া সেই জমায়েত থেকে উঠেছে যুদ্ধ-বিরোধী স্লোগান। সংবিধান বাঁচানোর দাবিও জানিয়েছেন প্রতিবাদীরা।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর