মার্কিন প্রেডিসেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা উপেক্ষা করে হরমুজে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান।
এবার তাদের নিশানায় দু’টি পণ্যবাহী জাহাজ। বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূলবর্তী অঞ্চলে ইরানের ইসলামি রিপাবলিকান গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজ দু’টিতে হামলা চালায় বলে দাবি ব্রিটেনের।
বিজ্ঞাপন
ব্রিটেনের ‘মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কোনও আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে পণ্যবাহী একটি জাহাজের কাছে আইআরজিসির গানবোট থেকে ভারী মেশিনগানের গুলি চালানো হয়। এতে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা ‘ব্রিজ’ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্য দিকে, ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজটি সাড়া দেয়নি। তাই ‘সমুদ্র আইন’ অনুযায়ী ওই জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই অন্য একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের হামলার কথা জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এপি।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করার সময় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নৌ-অবরোধ জারি রাখার কথাও ঘোষণা করেন।
তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, আমি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, নৌ-অবরোধ যেমন ছিল তেমনই থাকবে এবং যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে, যত দিন পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ না হচ্ছে।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বুধবার জানান, ওয়াশিংটন অবরোধ তুলে নিলে তেহরানও হামলা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসবে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।
সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান সরকারের মধ্যে গুরুতর মতবিরোধ চলছে। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আমাদের অনুরোধ করেছেন ইরানের উপর আক্রমণ স্থগিত রাখতে।
যতক্ষণ না ইরানের নেতা এবং প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব দিতে পারেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আক্রমণ স্থগিত রাখছি। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজে অভিযান চালাল ইরান।
-এমএমএস




