ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের অনুরোধে এই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান সরকার মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে—যা অপ্রত্যাশিত ছিল না। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে আমাদের কাছে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে তাদের নেতা ও প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন। তাই আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছি এবং অন্যান্য সব দিক থেকে প্রস্তুত ও সক্ষম থাকতে বলেছি। প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করছি।’
বিজ্ঞাপন
এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের অবস্থান পরে জানানো হবে।
যদিও এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ইরানকে সতর্ক করেছিলেন যে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তবে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ফলে সবার মধ্যেই স্বস্তি নেমে এসেছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি বলা হয়, আজ ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসহাক দার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং সংলাপ ও কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ বুধবার (২২ এপ্রিল)। এর মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের পক্ষ থেকে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আমাদের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। একে উত্তেজনা প্রশমনে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, গুতেরেস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি ও আস্থা তৈরির পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
জেবি




