মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তৈমুর’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। 

মঙ্গলবার দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজ-বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবস্থা ‘তৈমুর’ আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল সরাসরি গোলাবর্ষণ সম্পন্ন করেছে, যা নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা এবং অভিযানগত প্রস্তুতির একটি শক্তিশালী প্রদর্শন।’


বিজ্ঞাপন


আইএসপিআর বলেছে, ‘ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি অসাধারণ নির্ভুলতার সাথে তার মিশন সম্পন্ন করেছে, যা দূরপাল্লা থেকে শত্রুপক্ষের সমুদ্রভিত্তিক হুমকি শনাক্ত, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত এবং চূড়ান্তভাবে নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতাকে প্রমাণ করে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই পরীক্ষাটি ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি যুগান্তকারী উত্তরণ’, যা পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী সমন্বিত হামলা চালানোর কৌশল এবং প্রচলিত ক্ষেত্রে সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানগণ এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের জন্য বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন’। 

এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও সফল পরীক্ষাটির প্রশংসা করে বলেছেন, এটি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’।


বিজ্ঞাপন


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, নাকভি সফল পরীক্ষার জন্য জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান বিমানবাহিনীও এই ‘তৈমুর’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। বর্তমান পরীক্ষাটি মূলত নৌবাহিনীর মেরিটাইম স্ট্রাইক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ ছিল।

জানা গেছে, ‘তৈমুর’ক্ষেপণাস্ত্রটি পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি অত্যন্ত আধুনিক আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি মূলত জল এবং স্থলে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। 

এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ পাল্লা ৬০০ কিলোমিটার (৩৭০ মাইল), যা এটি পাকিস্তানের বিমান ও নৌবাহিনীকে নিরাপদ দূরত্ব থেকে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা দেয়। এটি সাবসনিক গতিসম্পন্ন এবং ‘টেরেন-হাগিং’ ও ‘সি-স্কিমিং’ প্রযুক্তিতে কাজ করে। অর্থাৎ, এটি ভূমি বা সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যেতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

এছাড়াও আধুনিক ইনার্শিয়াল নেভিগেশন (আইএনএস), স্যাটেলাইট নেভিগেশন ( জিএনএসএস) এবং টার্মিনাল পর্যায়ের জন্য ইমেজিং ইনফ্রারেড সিকার (আইআইআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্রে, যা লক্ষ্যবস্তুকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে আঘাত নিশ্চিত করে। এর ওজন প্রায় ১২০০ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৩৮ মিটার। এতে ‘বক্স-শেপড’ ফিউজেলেজ এবং ভাঁজযোগ্য পাখা রয়েছে, যা একে স্টিলথ বা রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা প্রদান করে।

সূত্র: ডন, জিও নিউজ

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর