যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনাকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইসলামাবাদে মার্কিন এবং ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।
সোমবার ইসলামাবাদের ডিপ্লোম্যাটিক এনক্লেভে মার্কিন দূতাবাসে নাটালি বেকারের সঙ্গে সাক্ষাতকালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন দ্বিতীয় দফার আলোচনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মহসিন নকভি বলেছেন, পাকিস্তান তাদের সকল বিশেষ অতিথিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নকভি বলেন, ‘এই দ্বিতীয় দফার আলোচনার সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছে ইসলামাবাদ।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের আন্তরিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদামের সঙ্গে দেখা করে ইসলামাবাদ আলোচনার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন নকভী।
বিজ্ঞাপন
পাক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করলেও নকভি জানিয়েছেন, সব আয়োজন চূড়ান্ত এবং প্রতিনিধিদলের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা” করা হয়েছে। বৈঠকে তিনি তার সাম্প্রতিক ইরান সফর সম্পর্কেও রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোগাদাম উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকার’ প্রশংসা করেছেন।
দুই বৈঠকে্সউলামাবাদের চিফ কমিশনার, আইজিপি এবং ডেপুটি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুটি পাকিস্তানি সূত্রে বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও ইরান ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে। যদিও ইরান এখনো এই সম্ভাব্য আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদল আগামীকাল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের সংসদ স্পিকার বাঘের কালিবাফের নেতৃত্বে সেই একই প্রতিনিধিদল এবারও আসছে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও রয়েছেন।
অপরদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল- যেখানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকবেন, সোমবার গভীর রাতে বা মঙ্গলবার ভোরে ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। ভ্যান্স আলাদা বিমানেও আসতে পারেন বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
একাধিক পাকিস্তানি সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, গতকাল রোববার ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে অন্তত দুটি মার্কিন বিমান। এসব বিমানে অগ্রিম প্রতিনিধিদল ও নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে পিটিভি জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদের বিলাশবহুল সেরেনা হোটেল ও এর পাশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল এই হোটেলেই প্রথম দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে। যদিও ওই আলোচনা সফল হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসলামাবাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিও নিরাপত্তা কড়াকড়ির আওতায় রয়েছে। দুই শহরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আসন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলাকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




