ভারতের রাজস্থানে একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগামীকাল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই তেল শোধনাগারটি উদ্বোধনের কথা ছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শোধনাগারের সিডিইউ (ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট) অংশে আগুন লাগে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
রাজস্থানে বালোত্রা জেলার পাচপাদ্রায় অবস্থিত এই শোধনাগারটি, যা ভারতের প্রথম গ্রিনফিল্ড সমন্বিত শোধনাগার-কাম-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। এটি ভারতের রাষ্ট্রয়ত্ব জ্বালানি সংস্থা- হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল) এবং রাজস্থান সরকারের একটি যৌথ উদ্যোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও আগুনের শিখা প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। আগুনের তীব্রতার কারণে আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী থেকে স্পষ্ট আগুন কত ব্যাপক ভাবে ছড়িয়েছে।
Rajasthan: Fire breaks out in a refinery unit ahead of inauguration in Pachpadra pic.twitter.com/kSmLOgOCDA
— NDTV (@ndtv) April 20, 2026
কর্মকর্তারা বলছেন, দমকলের ২০টিরও বেশি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগুন যাতে অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে সেই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের জন্য কারিগরি দল ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে রাজস্থানে অশোক গেহলট নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের আমলে ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সোনিয়া গান্ধী এই শোধনাগারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যার প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭ হাজার ২৩০ কোটি রুপি। সরকার পরিবর্তনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ব্যয় সংশোধন করে ৪৩ হাজার ১২৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করেন।
এনডিটিভি বলছে, জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি, এই শোধনাগারটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পরবর্তী পর্যায়ের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যও উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এগুলো এই অঞ্চলের আসন্ন শিল্প ইউনিটগুলোর জন্য উচ্চমানের কাঁচামাল হিসেবে কাজ করবে। এরমধ্যে পলিপ্রোপিলিন, পলিইথিলিন (এইচডিপিই/এলএলডিপিই), বেনজিন, টলুইন এবং বিউটাডাইনের মতো পণ্যের ওপর ভিত্তি করে শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, যা একটি শক্তিশালী শিল্প বাস্তুতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করবে।
এই উপকরণগুলো প্লাস্টিকের আসবাবপত্র, কৃষি পাইপ, প্যাকেজিং ফিল্ম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সিন্থেটিক ফাইবার, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং রঙ ও ডিটারজেন্টের মতো রাসায়নিক পদার্থসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর




