ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার শুরুর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজ ‘জোরপূর্বক আটক’ করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়িত্বশীলভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সংবেদনশীল ও জটিল। এখন যেহেতু শান্তির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করা থেকে বিরত থাকা এবং প্রণালীটি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল পুনরায় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইরানের বন্দরগুলোতে তাদের অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী একটি ইরানি পণ্যবাহী জাহাজে তারা গুলি চালিয়ে সেটিকে আটক করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং তারা এটিকে ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে।
প্রসঙ্গত, রোববার (১৯ এপ্রিল) ওমান উপসাগরে ‘তুসকা’ নামের ওই ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজটি জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, জাহাজটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয়।
এদিকে রোববার রাতে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট-কর্নেল ইব্রাহিম যুলফাগারি, মার্কিন নৌবাহিনীর এই অপরাধমূলক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
যুলফাগারি বলেন, ‘আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্র ওমান সাগরের জলসীমায় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে এবং জাহাজটিতে তাদের বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মেরিন সেনাকে নামিয়ে এর নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ও সামুদ্রিক জলদস্যুতা করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সতর্ক করছি যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত এই সশস্ত্র দস্যুতা এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রতিশোধমূলক হামলার জবাব দেবে।’
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর




