ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক ঘণ্টায় যে দাবিগুলো করেছেন তার সবগুলোই ‘মিথ্যা’।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরে গালিবাফ আরও বলেন, ‘তারা এই মিথ্যা দিয়ে যুদ্ধে জয়ী হয়নি এবং আলোচনাতেও তারা নিশ্চিতভাবে কোনো ফল পাবে না।’
বিজ্ঞাপন
মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নির্ধারিত পথ এবং ইরানের অনুমোদন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।’
ইরানের সংসদের স্পিকার বলেন, ‘প্রণালিটি পরিচালনার বিধিমালা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা নির্ধারিত হবে না’।
এরআগে শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে আজকের দিনটিকে বিশ্বের জন্য একটি ‘মহান ও উজ্জ্বল দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।
একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর ও বহাল থাকবে—এবং তা চলবে যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পূর্ণ হচ্ছে’।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যেহেতু বেশিরভাগ বিষয়েই আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, তাই এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’
আরেকটি পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘ইরান সম্মত হয়েছে যে তারা আর কখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করবে না এবং এটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরান পারস্য উপসাগরে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণ করেছে বা অপসারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
পৃথক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তিনি সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও তাদের “সাহসিকতার” জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিধ্বস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে তেহরান ও ওয়াশিংটন যৌথভাবে কাজ করবে। উদ্ধার করা এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে এটি (ইউরেনিয়াম) উদ্ধার করতে যাচ্ছি। আমরা ইরানের সঙ্গে মিলে বেশ ধীরস্থিরভাবে সেখানে যাব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খনন কাজ শুরু করব...এরপর আমরা সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।’
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




