ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও এই সমস্যার একটি ‘দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর’ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। একই সঙ্গে প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি আন্তর্জাতিক মিশনে নেতৃত্ব দেবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার প্রায় ৪০টি দেশের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এরপরই সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
স্টারমার বলেছেন, বিশ্বনেতারা একজোট হয়ে এই বার্তাই দিচ্ছেন যে- হরমুজ প্রণালি অবশ্যই কোনো ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক বা বিধিনিষেধ ছাড়াই উন্মুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে পরিবেশ অনুকূলে আসার সাথে সাথেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার ঘোষণা দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে আসা মাত্রই ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক মিশন শুরু হবে। এই মিশনটি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং আত্মরক্ষামূলক।’
এর রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে লন্ডনে একটি বিশেষ পরিকল্পনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে অন্তত ১২টি দেশ এই মিশনে সামরিক সরঞ্জাম ও সম্পদ দিয়ে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন সংঘাতের অবসান এবং স্থিতিশীলতা ফিরে আসা দেখতে চায়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘোষণাকে স্বাগত জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজপ্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
‘কূটনীতি আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে’— উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ জানান, আজ যেসব দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছেন, তারা সব পক্ষের কাছ থেকে “হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও পূর্ণমাত্রায় পুনরায় খুলে দেওয়ার” দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ‘যুদ্ধের আগে যে মুক্ত নৌ চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার” দাবি করেন।
তিনি বলেন, এই দেশগুলো প্রণালিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা এবং যেকোনো ধরনের টোল ব্যবস্থা আরোপের বিরোধিতা করে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেন, চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকু বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই তেল পরিবহন পথটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’
আরাঘচি আরও জানান, ‘ইরানের বন্দর ও সমুদ্র বিষয়ক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী এই চলাচল অব্যাহত থাকবে’।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




