ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস নেমেছে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তেলের দাম ১৩ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২ দশমিক ৮৭ ডলার বা ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৫২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সেস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩ দশমিক ৫০ ডলার বা ১৪ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৮১ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই এই দর গত ১১ মার্চের পর থেকে সর্বনিম্ন।
বিজ্ঞাপন
সুইস ব্যাংক ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যতক্ষণ যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকবে। এখন আমাদের এটাও দেখতে হবে যে প্রণালী অতিক্রমকারী ট্যাংকারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় কি না’।
যদিও শুক্রবার সেশনের শুরুতেই তেলের দাম কমে গিয়েছিল, কারণ আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক এবং লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিনিয়োগকারীদের মনে আশার আলো দেখিয়েছে- দীর্ঘস্থায়ী এই অস্থিরতা হয়তো শেষের পথে।
প্রসঙ্গত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত মার্চ মাসে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে—প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা সংঘাত শুরুর আগে ছিল ৭০ ডলারের নিচে। তবে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার সম্ভাবনায় সম্প্রতি তা ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নামে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




