লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। কার্যকরের ঠিক আগে ও পরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। স্থানীয় সময় অনুযায়ী শেষ এক ঘণ্টায় ডজনখানেক হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা করেছে। সংগঠনটির দাবি, লেবাননের ভেতরে ও সীমান্তের ওপারে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিট পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও তা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হিজবুল্লাহর ৩৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে রাজধানী বেইরুত–এ যুদ্ধবিরতির আগে ও পরে আতশবাজি ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। শহরের উপকূলীয় এলাকায় বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও হিজবুল্লাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বৈরুতের কিছু বাসিন্দা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দ্রুত ঘরে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসে দেশ দুটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে দুই পক্ষের বৈঠক হলেও সেদিন কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। তবে নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল ইসরায়েল ও লেবানন।
এর মধ্যে ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে গতকাল জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি লেবাননের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে চমৎকার আলোচনা করেছি। এই দুই নেতা তাদের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা থেকে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু করতে রাজি হয়েছেন।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তার আগে দুই পক্ষ ব্যাপক হামলা চালায়।
সূত্র: আল–জাজিরা
এমআর




