বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

তেল সংকট: বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার দিবে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

তেল সংকট: বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার দিবে জাপান

ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন (১০০০ কোটি) ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া।

বুধবার এশীয় নেতাদের সঙ্গে এক অনলাইন বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি এই সহায়তার ঘোষণা করেন। 


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে জাপান ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।’  

মূলত, পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি নানা পণ্য, বিশেষ করে চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য জাপান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। জাপানের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সাহায্য করা। পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং তেলের মজুত বাড়ানোও এই রূপরেখার অংশ।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসিয়ানভুক্ত (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট) দেশগুলো এক বছরে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, জাপানের দেওয়া ১ হাজার কোটি ডলারের এই সহায়তা প্রায় তার সমান। 

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা জাপানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। 


বিজ্ঞাপন


এদিকে সহায়তার তহবিল জোগানে যুক্ত থাকবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এবং নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনস্যুরেন্সের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) এই অর্থায়নে অংশ নেবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশ্বস্ত করেছেন, এই উদ্যোগের ফলে জাপানের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

২০২৫ সালের শেষের দিকের হিসাব অনুযায়ী, জাপানের কাছে ২৫৪ দিনের চাহিদা মেটানোর সমপরিমাণ তেলের মজুত ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ সেই মজুত ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে।   

গত মাসে জাপান তাদের মজুত থেকে রেকর্ড ৫০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছেড়েছে। মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের সমপরিমাণ তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। এই সামুদ্রিক পথটি জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এশিয়া জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। 

বিশ্বের মোট তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। 

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করত; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম বেড়ে গেছে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর