বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরুর উদ্যোগ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক ফোনালাপে এই আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আমেরিকার অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও ‘জটিল’ করে তুলবে। তার মতে, এটি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেমন সম্মান করা এবং সুরক্ষিত রাখা উচিত, আবার একই সঙ্গে এই জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি বেশ জটিল একটি জায়গায় পৌঁছেছে। আমরা এখন সংঘাত এবং শান্তির মধ্যবর্তী একটি স্থানে আছি। এই স্থান থেকে শান্তিতে উত্তরণের পথ হতে পারে হরমুজ প্রনালিকে মুক্ত করে দেওয়া। প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে।’
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফেরার পক্ষে চীন সমর্থন দিচ্ছে উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ইরানের পাশে আছি।
বিজ্ঞাপন
এরআগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগোযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছি বলে চীন খুব খুশি। আমি এটা করেছি তাদের জন্য এবং সারা বিশ্বের জন্যেও। এই পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না। তারা (চীন) ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, ‘আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এবং খুব ভালোভাবে একসাথে কাজ করছি! এটা কি মারামারির চেয়ে ভালো নয়??? কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা লড়াই করতেও খুব পারদর্শী, যদি দরকার পড়ে, (এক্ষেত্রে) অন্য সবার চেয়ে অনেক ভালো!!!’
এর আগে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি দিয়ে তেহরানকে অস্ত্র না দেওয়ার অনুরোধের কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। তবে চিঠি আদান-প্রদানের সময় সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলেননি তিনি। যদিও গত সপ্তাহে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে তাদের ওপর সঙ্গে সঙ্গে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের ‘মর্নিংস উইথ মারিয়া’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমি তাকে (শি জিনপিং) চিঠি লিখে এমনটা না করতে বলেছিলাম। তিনি আমাকে ফিরতি চিঠিতে জানিয়েছেন, নিশ্চিতভাবে তিনি এমন কিছু করছেন না।’
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এই অবরোধের ঘোষণা দেন। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, সোমবার অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং কোনো জাহাজই এখন পর্যন্ত এটি ভেদ করতে পারেনি।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




