বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মার্কিন অবরোধ থাকলেও দুই মাস সচল থাকতে সক্ষম ইরানের তেল শিল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

মার্কিন অবরোধ থাকলেও দুই মাস সচল থাকতে সক্ষম ইরানের তেল শিল্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল আটকে দেওয়ার পর, তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হওয়ার আগে ইরান অন্তত দুই মাস রফতানি বন্ধের ধাক্কা সইতে পারবে। এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকেরা। গত ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে চীনের মতো প্রধান ক্রেতার কাছে পৌঁছানো দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইরানের উৎপাদন বন্ধ হলে বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়বে এবং তেলের দামও চড়া হবে। রফতানি বন্ধ থাকায় ইরানকে এখন তাদের অপরিশোধিত তেল স্থলভাগের স্টোরেজ ট্যাংকগুলোতে সরিয়ে নিতে হবে। এসব ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেলে ওপেকের এই সদস্য রাষ্ট্রটি তেলের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে।


বিজ্ঞাপন


বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সট্যান্ট ইসিএ-এর হিসাব অনুযায়ী, ইরানের মোট ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক নোটে জানিয়েছে, ‘রফতানি ছাড়াই ইরান প্রায় দুই মাস তাদের বর্তমান দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বজায় রাখতে পারবে। আর যদি দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানো হয়, তবে এই সময়সীমা তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।’ তারা আরো যোগ করেছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস কায়রোসের তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করেছে, ইরানের প্রকৃত মজুত সক্ষমতা আরো কম—প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল। এই হিসেবে, দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল রফতানির বিপরীতে মজুত ক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ার আগে ইরান বড়জোর ১৬ দিন বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে পারবে।

এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ বলেন, ‘এপ্রিল মাসে এই অবরোধ ইরানি উৎপাদনের ওপর খুব একটা প্রভাব না-ও ফেলতে পারে, কিন্তু মে মাস পর্যন্ত এটি চলতে থাকলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে হবে।’


বিজ্ঞাপন


তিনি আরো বলেন, ‘ইরান তাদের নামমাত্র পূর্ণ ধারণক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে না বলেই তারা ধরে নিচ্ছেন। ২০২০ সালের মে মাসে মজুত সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা সম্ভবত একটি বাস্তবসম্মত সীমা।’

ব্রোঞ্জ আরও বলেন, ‘উৎপাদন হ্রাস বিলম্বিত করতে ইরান সম্ভবত বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করবে।’

মার্কিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান সংশ্লিষ্ট ৮টি তেলের ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দর থেকে বের হওয়ার চেষ্টার সময় একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার দুটি ট্যাংকার থামিয়ে দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই কঠোর অবরোধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর