বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইরানকে অস্ত্র না দিতে চীনা প্রেসিডেন্টকে চিঠি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানকে অস্ত্র না দিতে চীনা প্রেসিডেন্টকে চিঠি ট্রাম্পের

ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার অনুরোধ জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি লিখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছে ট্রাম্প নিজেই। তবে চিঠি আদান-প্রদানের সময় সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলেননি তিনি। যদিও গত সপ্তাহে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে তাদের ওপর সঙ্গে সঙ্গে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।


বিজ্ঞাপন


ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের ‘মর্নিংস উইথ মারিয়া’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমি তাকে (শি জিনপিং) চিঠি লিখে এমনটা না করতে বলেছিলাম। তিনি আমাকে ফিরতি চিঠিতে জানিয়েছেন, নিশ্চিতভাবে তিনি এমন কিছু করছেন না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাত এবং ভেনেজুয়েলার পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে ওঠানামা হয়েছে। তবে, আগামী মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার নির্ধারিত বৈঠকে এর প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘তার (চীন) তেলের প্রয়োজন আছে, আমাদের নেই।’

পৃথকভাবে বুধবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ায় চীন খুব খুশি। আমি এটা তাদের জন্যও করছি—এবং সারা বিশ্বের জন্যও। এই পরিস্থিতি আর কখনো ঘটবে না। তারা ইরানে অস্ত্র না পাঠাতে সম্মত হয়েছে।’ 


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা বুদ্ধিমত্তার সাথে এবং খুব ভালোভাবে একসাথে কাজ করছি! এটা কি মারামারির চেয়ে ভালো নয়??? কিন্তু মনে রাখবেন, দরকার পড়লে আমরা লড়াই করতেও খুব পারদর্শী - অন্য সবার চেয়ে অনেক ভালো!!!’

এদিকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বেইজিং। 

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তিনজন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ইঙ্গিত দিয়েছে চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরই ইরানকে সামরিকভাবে সহায়তা করলে চীনের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প। 

গত রোববার তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী চীন ইরানকে সহায়তা করছে—এ বিষয়টি যদি সত্য হয়, তাহলে চীন বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়বে। তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী বেইজিংয়ের পণ্যের ওপর ‘বিস্ময়কর’ নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে’।

তবে বেইজিংয়ের দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত মিথ্যা প্রতিবেদনের জেরেই ট্রাম্প এই শুল্ক বৃদ্ধি হুমকি দিয়েছেন।  

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, ‘ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে চীনের ওপর শুল্ক বাড়ায়, তাহলে চীনও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে’।

তিনি আরও বলেন, ‘চীন সামরিক পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে সর্বদা বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে। একই সঙ্গে আইন-কানুন ও যথাযথ আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে’।

প্রসঙ্গত, সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ফাঁকে বিদেশি অংশীদারদের সাহায্যে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার আবারও পূর্ণ করার চেষ্টা করছে তেহরান।

দুটি গোয়েন্দা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, তারা ইঙ্গিত পেয়েছেন চীন এসব অস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। অস্ত্রের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতেই সেগুলো সরাসরি পাঠানো হচ্ছে না। 

সূত্রের দাবি, ‘ম্যানপ্যাড’ নামক কাঁধ থেকে ছোড়া যায় এমন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। এই ব্যবস্থাগুলো নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর জন্য একটি অপ্রতিরোধ্য হুমকি সৃষ্টি করে, যা ৪০ দিনের যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল ইরান। যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে ও আবারো যুদ্ধ শুরু হলে এই অস্ত্র ফের যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর