ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ার আশঙ্কায় সারাদেশে ‘পিক আওয়ারে’ লোডশেডিং ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
মঙ্গলবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১টার মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট দেশের অধিকাংশ এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে, ফলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘাটতি পূরণে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার করতে হয়।
বিজ্ঞাপন
এতে আরও বলা হয়, এই লোডশেডিং একযোগে নয়, বরং বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কার্যকর করা হবে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় শহর করাচি, যেখানে দুই কোটিরও বেশি মানুষ বাস করে—এবং হায়দরাবাদ শহরকে এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, বর্তমানে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যস্ততম সময়গুলোতে, যখন বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, বিশেষ করে কারণ আজকাল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন যথেষ্ট পরিমাণে কমে গেছে। এই চাহিদা মেটাতে যদি দামী জ্বালানির ওপর নির্ভর করা হয়, তাহলে বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।’
মুখপাত্র আরও বলেন, পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বিদ্যুৎ বিভাগকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন যে, বিদ্যুতের দামে যেন ব্যাপক বৃদ্ধি না ঘটে এবং যদি ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের কারণে দামে কিছুটা বৃদ্ধিও ঘটে, তাহলে সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধি কমানোর জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।
মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন , চলমান সংকট সত্ত্বেও জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি গড়ে ০.৭১ রুপি কমেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং দাম হু হু করে বেড়ে গেছে। পাকিস্তান তার জ্বালানি চাহিদার জন্য এ রুটের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। সংকটের মধ্যেও কিছু ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি পেলেও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এগুলোর খরচ বেড়ে গেছে।
সূত্র: জিও নিউজ
এমএইচআর




