ভেস্তে গেছে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনা। তার পরই হরমুজ প্রণালী ‘অবরোধ’ করার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা।
তারা জানিয়েছে, ইরানের কোনও জাহাজকে পার হতে দেওয়া হবে না। সেই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে চার দফা প্রস্তাব দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বিজ্ঞাপন
আবুধাবির যুবরাজ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বর্তমানে চীনে রয়েছেন। বৈঠক করেছেন জিনপিঙের সঙ্গে।
চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সেই বৈঠকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ ওঠে। তখনই শি জিনপিং চার দফা প্রস্তাবটি পেশ করেন।
তিনি মনে করেন, পশ্চিম এশিয়ার প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে চিন সর্বদা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তাই ওই অঞ্চলে কীভাবে শান্তি ফেরানো যায়, তা অগ্রাধিকার দিয়ে ভাবছে চীন।
অন্য দিকে, আগামী বৃহস্পতিবার আবার আমেরিকা এবং ইরান শান্তি বৈঠকে বসতে পারে। সেই আবহে চীন শান্তি প্রস্তাব দিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন:
আবুধাবির যুবরাজের কাছে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সেই প্রস্তাবগুলির প্রথমেই রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
শি জিনপিঙের মতে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অত্যন্ত জরুরি। তার পরেই চীন জোর দিয়েছে অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে।
তিনি মনে করেন, প্রত্যেক রাষ্ট্রকে অবশ্যই একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে। উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে, এমন কোনও কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে সবাইকে।
শি জিনপিং তার তৃতীয় প্রস্তাবে জোর দিয়েছেন উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর। চীনা প্রেসিডেন্টের কথায়, এই প্রস্তাবের লক্ষ্য ওই অঞ্চলের উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নীতির মধ্যে এক শক্তিশালী যোগসূত্র তৈরি করা।
আমি মনে করি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।তার পরেই আন্তর্জাতিক আইন কঠোর ভাবে মেনে চলার বার্তা দিয়েছেন জিনপিং।
অনেকেরই ধারণা, হরমুজ অবরুদ্ধ করে এক দিকে ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে চাইলেও পরোক্ষে চীনকেও একটা শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা।
তবে চীন বার বারই যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফেও গত ১৩ এপ্রিল আমেরিকা-ইরানের এই যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানানো হয়।
কিন্তু আমেরিকা হরমুজ অবরুদ্ধ করার ঘোষণার পরই চীন প্রতিক্রিয়া দেয়, ইরান এবং চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যদি কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তার পরিণাম ভুগতে হবে।
-এমএমএস




