ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয় তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবি তোলে।
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইসলামাবাদে আলোচনার সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রস্তাব বিনিময় করে। তবে এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ কতদিন হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় মতপার্থক্য থাকলেও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর একটি পথ তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ শুরু করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরান। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে প্রায় সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর ইরানও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে গতকাল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে দুই পক্ষ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি হোটেলে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি এ আলোচনা শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গসহ নানা বিষয় উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত শান্তি আলোচনা সফল হয়নি। এতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এমআর




