ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণভাবে তেহরানের নিয়ন্ত্রণে আছে। এ জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য অবশ্যই ইরানি মুদ্রায় (রিয়াল) টোল দিতে হবে।
বাবাই এর এই বক্তব্যটি প্রকাশ করেছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়া সংলাপ ব্যর্থ ঘোষণার মধ্যেই ইরানি কর্তৃপক্ষ হরমুজ নিয়ে এমন বার্তা দিয়েছে। রোববার সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপকে ব্যর্থ ঘোষণা করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এ সময় তিনি হরমুজ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইসলামাবাদের সংলাপে এই প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল। এ ছাড়া, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তেও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ার কথা আছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার জানায়, সমুদ্রপথ মাইনমুক্ত করার একটি অভিযানের অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন কোনো নৌযান ওই এলাকা দিয়ে যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি সতর্কবার্তা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
‘টোল আদায় অবৈধ’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজ থেকে আদায়ের ইরানি পরিকল্পনা অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) প্রধান আরসেনিও ডমিঙ্গুয়েজ। এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাগিদ দিয়েছেন।
আইএমও মহাসচিব ডমিঙ্গুয়েজ আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, হরমুজের মতো প্রণালিতে টোল আদায়ের অধিকার কোনো দেশের নেই। যেকোনো ধরনের টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
আরসেনিও ডমিঙ্গুয়েজ আরও বলেন, ‘এ ধরনের ব্যবস্থা না মানতে আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ এটি একটি নজির তৈরি করবে, যা বৈশ্বিক শিপিংয়ের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।’
এফএ




