গাজা অভিমুখে আবারও যাত্রা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। ইসরায়েলি নৌ-অবরোধ ভেঙে ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবার ৭০টিরও বেশি জাহাজ এবং প্রায় এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নিয়েছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা।
বিজ্ঞাপন
সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র পাবলো কাস্তিয়া বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গাজায় যা ঘটছে তাতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার নিন্দা জানানো, জবাবদিহিতা দাবি করা এবং সমুদ্র ও স্থলপথে একটি মানবিক করিডোর চালু করা।’
ইরানের ওপর হামলা এবং লেবাননের কর্মকাণ্ডের কারণে গাজায় আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমে যাওয়ায় কাস্তিলা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
কাস্তিয়া বলেন, ‘ইসরায়েল গাজার ওপর অবরোধ জোরদার করেছে, ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিয়েছে, বসতি সম্প্রসারণ করেছে এবং ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ ত্বরান্বিত করেছে।’
তিনি আরও জানান, এবারের বহরটি আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এতে ৭০টি জাহাজ এবং ৭০টি দেশের প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আয়োজকরা জোর দিয়ে বলেছেন, তারা আইন মেনেই কাজ করছেন এবং আইন বিশেষজ্ঞ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশের পরিকল্পনা আছে বলেও জানানো হয়েছে।
এরআগে গত বছররে আগস্টে গাজার উপকূলের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ ৪৩টি নৌযান। জাহাজগুলোতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ছিলেন সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ জন নাগরিক। কিন্তু প্রায় এক মাসের যাত্রা শেষে গাজার জলসীমায় কাছাকাছি যাওয়ার পরপরই সবগুলো নৌযান আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। পরে নৌযান, ক্রু এবং আরোহীদের ইসরায়েলের নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। টানা প্রায় দুই বছরে এই আগ্রাসনে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলার পাশাপাশি ইসরায়েল গাজাকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যার ফলে উপত্যকাটিতে চরম খাদ্য ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ অনাহার ও অপুষ্টিতে ভুগছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আন্তর্জাতিক জলসীমা ব্যবহার করে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর জোট ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)।
সূত্র: টিআরটি ওয়াল্ড, মিডল ইস্ট মনিটর
এমএইচআর




