পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বহুল প্রতিক্ষিত সরাররি আলোচনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে এটি হবে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা, যার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সেরেনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়, যা পাকিস্তানের রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত ভবন হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বৈঠকে অংশ নেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও। আর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বধীন মার্কিন প্রতিনিধি দলের রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মধ্যস্ততায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে রয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
পাকিস্তান সরকারের সূত্রে বরাতে বিবিসি উর্দু জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় এই আলোচনা শুরু হয়। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আড়াই ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর সংক্ষিপ্ত বিরতিতে যায় দুই পক্ষ।
একটি সূত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। একটি সংক্ষিপ্ত বিরতির পর পাকিস্তানের স্থানীয় রাত সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
আলোচনার সঙ্গে জড়িত ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই দেশ পরোক্ষভাবে আলোচনা করবে বলে জানা গেলেও পরে তাতে পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একই কক্ষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছে।
আলজাজিরার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে শত শত সাংবাদিক ইসলামাবাদের প্রধান সম্মেলন কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের উচ্চমানের কফি, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং বিশেষজ্ঞ ব্র্যান্ডিং সবই সবরাহ করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ, কিন্তু মূল আলোচনা বিশ্বের গণমাধ্যমের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে, কারণ আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখান থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে হোটেল সেরেনায়। হোটেলটিতে কোনো সাংবাদিক প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তাসহ মৌলিক শর্তগুলোর বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে ইরানিদের দাবিকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে। তবে এখনও প্রাথমিক পর্যায় এবং এর অনেক কিছুই নিশ্চিত হওয়া বাকি, কিন্তু একটি বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তানিরা এখনও খুবই আশাবাদী।
ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ পাকিস্তান সফরের আগেও বলেছিলেন, আলোচনার শর্ত হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
এরআগে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এসব বৈঠকের ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিস্তারিত বিষয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পৃথক বৈঠক নিয়ে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শান্তি আলোচনায় ‘ইরানের সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেছেন’ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অর্থবহ ফলাফল অর্জনের গতি সঞ্চারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অব্যাহত রাখার ‘আন্তরিক সংকল্পের’ কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স
এমএইচআর




